নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য গত ২৮ সেপ্টেম্বর একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়, যেখানে প্রাথমিকভাবে ৭৩টি স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার তালিকা ছিল। এই তালিকা প্রকাশের পর আগ্রহী পক্ষগুলোকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবের কাছে তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে লিখিত দাবি, আপত্তি বা অভিযোগ সহায়ক প্রমাণসহ জমা দিতে বলা হয়েছিল।
দাবি-আপত্তি ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন দুই ধাপে পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। প্রথম ধাপে ৬৬টি দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থাকে চলতি বছরের ৬ নভেম্বর থেকে ২০৩০ সালের ৫ নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য নিবন্ধন দেওয়া হয়। এরপর দ্বিতীয় ধাপে যাচাই-বাছাই শেষে আরও ১৫টি পর্যবেক্ষক সংস্থাকে চলতি বছরের ৪ ডিসেম্বর থেকে ২০৩০ সালের ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে মোট ৮১টি দেশীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ইসির চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করলো।
প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিবন্ধনের প্রথা শুরু হয়। সে সময় ১৩৮টি সংস্থা নিবন্ধন পেয়েছিল এবং ওই নির্বাচনে দেশি পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ছিল এক লাখ ৫৯ হাজার ১১৩ জন। পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে এই সংখ্যা ওঠানামা করেছে। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩৫টি সংস্থার ৮ হাজার ৮৭৪ জন পর্যবেক্ষক ভোট পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৮১টি দেশি সংস্থার ২৫ হাজার ৯০০ জন পর্যবেক্ষক অংশ নেন। সর্বশেষ, ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নিবন্ধিত ৯৬টি সংস্থার মধ্যে প্রায় ৮০টি সংস্থার ২০ হাজার ২৫৬ জন পর্যবেক্ষক ভোট আয়োজন পর্যবেক্ষণ করেছিলেন।
নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে যে, বিগত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নিবন্ধিত ৯৬টি স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন ‘নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা ২০২৫’-এর ধারা ১৬ অনুযায়ী এখন আর কার্যকর নেই, অর্থাৎ তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে গেছে।
ডেস্ক রিপোর্ট