রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) তিন শিক্ষককে বিভিন্ন মেয়াদে বরখাস্ত ও সাময়িক বরখাস্ত এবং পাঁচ শিক্ষার্থীর মধ্যে দুজনের ছাত্রত্ব বাতিলসহ তিনজনকে বহিষ্কার করেছে সিন্ডিকেট, যা বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক শৃঙ্খলাবিষয়ক তদন্তের ফল হিসেবে গৃহীত সিদ্ধান্ত। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব সিদ্ধান্ত আপাতত কার্যকর হলেও সংশ্লিষ্ট কিছু মামলায় চূড়ান্ত মতামতের জন্য নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
মূল সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. অনীক কৃষ্ণ কর্মকারকে তিন বছরের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং আগামী দশ বছর কোনো পরীক্ষা-সংক্রান্ত দায়িত্বে রাখা হবে না। একই সঙ্গে পরিসংখ্যান বিভাগের প্রফেসর ড. প্রভাষ কুমার কর্মকার এবং ফাইন্যান্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহকে শিক্ষকতা থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, যা সিন্ডিকেটের তারিখ থেকেই কার্যকর ধরা হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী স্থায়ী বহিষ্কারের প্রশ্নে পৃথক চূড়ান্ত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দিলে তাঁদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে স্থায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তার আগ পর্যন্ত বরখাস্তের বর্তমান অবস্থা বহাল থাকবে বলে জানানো হয়।
শিক্ষার্থীদের বিষয়ে গৃহীত শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মধ্যে দুইজনের ছাত্রত্ব স্থায়ীভাবে বাতিল, একজন শিক্ষার্থীকে স্থায়ী বহিষ্কার এবং আরও দুইজনকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জনসংযোগ দপ্তর জানায়, কিছু বিশেষ কারণে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করার নীতি নেওয়া হয়েছে, তবে আর্থিক লেনদেন ও চাঁদাবাজির অভিযোগ জড়িত একটি ঘটনায় ফাইন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক পরিচয়ের ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এসব শাস্তির ফলে বহিষ্কৃতদের একাডেমিক সনদ বাতিল করার উদ্যোগও নেওয়া হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১১ মে ফাইন্যান্স বিভাগের এক কক্ষে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে এক নারী শিক্ষার্থীকে সহযোগী অধ্যাপক হেদায়েত উল্লাহর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ওই ঘটনার ভিডিও ও তথ্য তুলে ধরে চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাংবাদিক, আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে, যাঁদের মধ্যে তিনজনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়কসহ দুজনকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, সামগ্রিকভাবে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবার জন্য নিরাপদ ও জবাবদিহিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং ক্যাম্পাসে অনৈতিক আচরণ ও জোরজবরদস্তিমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা দিতে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট