বৈধ মোবাইল ফোন আমদানি, চোরাচালান রোধ এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন শিল্পকে সুরক্ষা দিতে সভায় একাধিক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রবাসীরা দেশে ছুটি কাটানোর সময় ৬০ দিন পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারবেন। ৬০ দিনের বেশি থাকলেই কেবল ফোনটি রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এঁরা মোট তিনটি ফোন ফ্রিতে সঙ্গে আনতে পারবেন (নিজের ব্যবহারের হ্যান্ডসেটের অতিরিক্ত দুটি নতুন ফোন)। চতুর্থ ফোনের ক্ষেত্রে শুল্ক প্রযোজ্য হবে।
এরা নিজের ব্যবহারের ফোনের পাশাপাশি অতিরিক্ত একটি ফোন ফ্রিতে আনতে পারবেন। চোরাচালান রোধে প্রবাসীদেরকে অবশ্যই মোবাইল ক্রয়ের বৈধ কাগজ/রসিদ নিজের সঙ্গে রাখতে হবে। স্মার্টফোনের বৈধ আমদানি শুল্ক বর্তমানে প্রায় ৬১ শতাংশ। সরকার এই শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতে কাজ শুরু করেছে, যাতে বৈধ পথে আসা ফোনের দাম কমে আসে।
আমদানি শুল্ক কমানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের ১৩-১৪টি ফ্যাক্টরিতে উৎপাদিত মোবাইলের শুল্ক ও ভ্যাটও কমাতে হবে। অন্যথায় বিদেশি বিনিয়োগ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই শুল্ক কমানো ও সমন্বয় নিয়ে বিটিআরসি এবং এনবিআর যৌথভাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দ্রুততার সঙ্গে কাজ শুরু করেছে।
অবৈধ আমদানি বন্ধ: ক্লোন মোবাইল, চুরি/ছিনতাই করা ফোন এবং রিফারবিশড (কেসিং পরিবর্তন করা ডাম্পিং) মোবাইল আমদানি ও চোরাকারবারি ব্যবসা বন্ধ করা হবে। বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরগুলোতে কাস্টমস থেকে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
১৬ ডিসেম্বরের আগে বাজারে অবৈধভাবে আমদানি করা স্টক ফোনগুলোর মধ্যে যেগুলোর বৈধ আইএমইআই নম্বর আছে, সেই তালিকা বিটিআরসিতে জমা দিয়ে হ্রাসকৃত শুল্কে সেগুলোকে বৈধ করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে ক্লোন ফোন এবং রিফারবিশড ফোনের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে না। ১৬ ডিসেম্বরের আগে সচলকৃত মোবাইল ফোন কোনোভাবেই বন্ধ হবে না। এ সংক্রান্ত গুজবে কান না দিতে সরকার সচেতন করেছে। ১৬ ডিসেম্বর থেকে এনইআইআর (National Equipment Identity Register) চালু হচ্ছে। সুতরাং বৈধ আইএমইআই নম্বরহীন হ্যান্ডসেট ক্রয় থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিজের নামে নিবন্ধিত সিম যেন কোনো সাইবার অপরাধ, অনলাইন জুয়া বা মোবাইল ব্যাংকিং জনিত অপরাধে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে এবং সবসময় নিজের নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।
প্রস্তাবিত টেলিযোগাযোগ অধ্যাদেশ (সংশোধনী) ২০২৫-এ মোবাইল সিমের ই-কেওয়াইসি এবং আইএমইআই রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত ডেটা সুরক্ষার নিশ্চয়তা তৈরি করা হয়েছে। উপাত্ত লঙ্ঘনকারীদের অপরাধের আওতায় আনা হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট