বিসিএস এবং ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এমআইসিএস জরিপটি দেশের জনস্বাস্থ্য, স্যানিটেশন ও পানীয় জলের গুণমান নিয়ে এক গভীর চিত্র তুলে ধরেছে। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, নলকূপ, পাইপড ওয়াটার, টিউবওয়েল, কূপ ও বোরহোল—সব ধরনের উৎস মিলিয়ে প্রায় ৪৭ শতাংশ পানির উৎসে ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
উৎস থেকে ঘরে পৌঁছানোর পর পানির দূষণ আরও মারাত্মক আকার ধারণ করে। জরিপে দেখা গেছে, ঘরে সংরক্ষিত পানির ৮৫ শতাংশে অতিমাত্রার ই-কোলাই রয়েছে। এই দূষণের মূল কারণগুলি মূলত মল বা বর্জ্যের সংস্পর্শে আসা, অগভীর নলকূপের ব্যবহার, স্যুয়ারেজ লাইনের ফুটো থাকা এবং পানির উৎসের আশপাশে অপরিষ্কার পরিবেশ।
অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, “নিরাপদ পানি প্রাপ্যতার দিক থেকে আমরা এখনো অনেক পিছিয়ে। সবার জন্য পানি এবং সবার জন্য নিরাপদ পানি এক নয়। আমরা এসডিজিতে যে অর্জন করেছিলাম, সেটা নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভুগেছি।”
জরিপে গ্রামীণ ও শহরাঞ্চল উভয় স্থানেই দূষণের হার উচ্চ দেখা গেছে। তবে শহরাঞ্চলের চেয়ে গ্রামীণ পরিবেশে বাড়িতে জল দূষণের হার বেশি (গ্রামীণ ৮৭.৫%, শহরাঞ্চল ৭৮.৫%)। সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারের (সেকেন্ড কোয়ান্টাইল) পানীয় জলের মধ্যে ৯০.৪ শতাংশ ই-কোলাই দ্বারা দূষিত, যেখানে তুলনামূলক ধনী পরিবারগুলোতে দূষণের হার ৭৪.৩ শতাংশ। প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশ মৌলিক পানির সুবিধা পেলেও, ৯৮.৬ শতাংশ পানির গুণমানের দিক থেকে অর্থাৎ নিরাপদ পানির প্রাপ্যতার ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। বর্তমানে ই-কোলাই ও আর্সেনিকমুক্ত পানি ব্যবহার করে মাত্র ৩৯.৩ শতাংশ মানুষ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পানি সংরক্ষণের পাত্র পরিষ্কার না থাকা, খোলা মুখের কলস বা বালতি ব্যবহার, অপরিষ্কার মগ বা গ্লাস ব্যবহার, শিশুদের পানির পাত্রে হাত দেওয়া কিংবা রান্নাঘর ও বাথরুমের পাশে পানি রাখার কারণে ঘরে এসে পানি আরো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
জরিপে আরও জানা যায়, মৌলিক স্যানিটেশন সুবিধা ব্যবহার করে ৭৩ শতাংশ পরিবার, এবং মৌলিক স্বাস্থ্যবিধি সুবিধা ভোগ করে ৬৭.৯ শতাংশ পরিবার। স্যানিটেশন ব্যবস্থার এই ঘাটতি এবং মলমূত্রের অনিরাপদ নিষ্কাশনও জল দূষণের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। ওয়াটার এইডের বাংলাদেশীয় প্রধান হাসিন জাহান বলেন, উত্তোলন এবং ব্যবস্থাপনার সংকট দূর করা না গেলে ই-কোলাইয়ের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব নয়।
ডেস্ক রিপোর্ট