ইন্টারনেট স্বাধীনতায় বিশ্বব্যাপী উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জনকারী দেশের তালিকায় এ বছর শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। ফ্রিডম হাউসের সাম্প্রতিক ফ্রিডম অন দ্য নেট ২০২৫ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশের স্কোর গত বছরের ৪০ থেকে বেড়ে ৪৫-এ দাঁড়িয়েছে—যা সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই উন্নতি বাংলাদেশের অবস্থানকে ভারত (৫১) ও শ্রীলঙ্কার (৫৩)-এর নিকটবর্তী করে দিয়েছে।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশ্বব্যাপী ৭২টি দেশের মধ্যে এ বছর সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি অর্জনকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে চিহ্নিত করেছে ফ্রিডম হাউস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্টারনেট স্বাধীনতায় এ উন্নয়ন প্রধানত দুই কারণের ফল—২০২৪ সালের আগস্টে শিক্ষার্থী-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রযুক্তি ও সাইবার নীতিতে সম্প্রসারিত সংস্কার।
এই নীতিগত পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে ইন্টারনেট শাটডাউন সীমিতকরণ, বিতর্কিত সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল, এবং নজরদারি কাঠামোর সংস্কার। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব টেলিকম ও ডিজিটাল নিরাপত্তা খাতে একাধিক নতুন অধ্যাদেশ ও নীতিমালা বাস্তবায়ন করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—নতুন টেলিকম অধ্যাদেশ, ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ এবং জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ।
মন্ত্রণালয়ের দাবি, এসব সংস্কার আন্তর্জাতিকভাবেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাংক এই দুই উপাত্তসংক্রান্ত অধ্যাদেশকে ‘বিশ্বমানের’ বলে আখ্যা দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহম্মদ জসীম উদ্দিন মনে করেন, এসব উদ্যোগ দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা ও স্বাধীনতাকে আরও মজবুত করবে এবং খুব দ্রুতই বাংলাদেশের ইন্টারনেট স্বাধীনতার স্কোর ৫০-এর ঘর অতিক্রম করবে।
বাংলাদেশের এই উন্নয়ন দেশের ডিজিটাল ভবিষ্যৎকে আরও উন্মুক্ত, নিরাপদ ও দায়বদ্ধ করার চলমান প্রচেষ্টার প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ডেস্ক রিপোর্ট