নয়াদিল্লিতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। রয়টার্স, দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট এবং এএফপিকে দেওয়া এসব ভার্চুয়াল সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জুলাই মাসে সংঘটিত সহিংস ঘটনার জন্য তিনি কোনোভাবেই ক্ষমা চাইবেন না এবং আওয়ামী লীগ ছাড়া আয়োজিত নির্বাচনের পর যে দলই সরকার গঠন করুক না কেন, তিনি দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন না।
রয়টার্সকে দেওয়া মন্তব্যে শেখ হাসিনা জানান, ক্ষমতাচ্যুত করার ঘটনাকে তিনি অন্যায় বলে মনে করেন এবং ভবিষ্যতে শেখ পরিবারের রাজনীতিতে নেতৃত্ব অপরিহার্য নয় বলেও মত দেন। দি ইন্ডিপেন্ডেন্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, তার অনুপস্থিতিতে চলমান বিচারপ্রক্রিয়া ‘লজ্জাজনক’ এবং জুলাইয়ের রক্তপাতের জন্য তাকে দায়ী করা অন্যায্য। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী ওই সহিংসতায় ১,৪০০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছিলেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলার শুনানি শেষ হয়েছে, এবং আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারিত হবে বলে জানা গেছে। এমন এক সময়ে এই সাক্ষাৎকারগুলো প্রকাশ পাওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের সময় আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণ, জাতিসংঘের তথ্য ও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো স্মরণ রাখা জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, গত বছরের ৫ আগস্টের পর ভারত কেবল শেখ হাসিনার নিরাপদ আশ্রয়ই নিশ্চিত করেনি, বরং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের স্থিতিশীলতাকে নানাভাবে প্রভাবিত করার কৌশলও চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, দিল্লি ও কলকাতায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পুনরায় সক্রিয় হয়েছে এবং সেখানে প্রবাসী সমর্থকদের মাধ্যমে সেমিনার ও প্রচারমূলক কর্মসূচিও চালানো হচ্ছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঘনিষ্ঠ একাধিক সেনা কর্মকর্তা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা অভিযোগ তোলেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ বেআইনিভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমান সরকারকে ‘অনির্বাচিত ও অবৈধ’ বলে আখ্যা দেন। নিজের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ফাঁসির রায় নিয়েও তিনি আশ্চর্য হওয়ার কিছু দেখেন না বলে মন্তব্য করেন, যদিও অভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন।
ডেস্ক রিপোর্ট