ইসলামে গনিমতের বিধান, বণ্টন ও আত্মসাতের পরিণতি
কোরআন ও হাদিসে যুদ্ধলব্ধ সম্পদের বণ্টন, নির্ধারিত খাতে ব্যয় এবং আত্মসাতের বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।
- আপলোড সময় : ২২-১০-২০২৬ ১০:৪৪:৫৪ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২২-১০-২০২৬ ১০:৪৪:৫৪ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১৭ বার পঠিত
ছবি—সংগৃহীত
ইসলামে গনিমতের সম্পদ বণ্টনের নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। যুদ্ধলব্ধ সম্পদের এক-পঞ্চমাংশ নির্ধারিত খাতে ব্যয় করার জন্য রাখা হয় এবং অবশিষ্ট অংশ যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী যোদ্ধাদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। কোরআন ও হাদিসে এ সম্পদ আত্মসাৎ করাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
গনিমত বলতে ইসলামী বিধান অনুযায়ী যুদ্ধের মাধ্যমে শত্রুপক্ষের কাছ থেকে অর্জিত সম্পদকে বোঝায়। এর মধ্যে অর্থ-সম্পদ, পশু এবং অন্যান্য যুদ্ধলব্ধ দ্রব্য অন্তর্ভুক্ত। গনিমতের এক-পঞ্চমাংশ আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশিত খাত, নিকটাত্মীয়, এতিম, মিসকিন ও মুসাফিরদের জন্য নির্ধারিত। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনের সুরা আনফালের ৪১ নম্বর আয়াতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আয়াতটিতে গনিমতের সম্পদ বণ্টনের নির্দিষ্ট খাত উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামী বিধান অনুযায়ী, যুদ্ধলব্ধ সম্পদ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া এবং নির্ধারিত নিয়মে বণ্টন করা জরুরি। এর মাধ্যমে সম্পদের একটি অংশ সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণেও ব্যয় করার ব্যবস্থা রয়েছে।
গনিমতের সম্পদ বণ্টনে রাষ্ট্রপ্রধান বা দায়িত্বপ্রাপ্ত আমিরের কর্তৃত্ব স্বীকার করা গুরুত্বপূর্ণ। অনুমতি ছাড়া এ সম্পদ থেকে কোনো কিছু গোপন করা বা ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য রেখে দেওয়াকে ইসলামী পরিভাষায় ‘গুলুল’ বলা হয়। এটি গুরুতর পাপ। গনিমতের কোনো পোশাক, পশু কিংবা অন্য সম্পদ নিজের ভাগে না পড়লেও তা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা আত্মসাতের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
তবে যুদ্ধের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী সাধারণ খাবার বা পশুখাদ্য সংগ্রহ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে হাদিসে ছাড়ের কথা উল্লেখ রয়েছে। এ ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবহার এবং গনিমতের সম্পদ আত্মসাৎ এক বিষয় নয়।
গনিমতের সম্পদ আত্মসাতের পরিণতি সম্পর্কে কোরআন ও হাদিসে কঠোর সতর্কবাণী রয়েছে। সুরা আলে ইমরানের ১৬১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি আত্মসাৎ করবে, কেয়ামতের দিন সে আত্মসাৎ করা বস্তু নিয়ে উপস্থিত হবে। সুনানে ইবনে মাজাহর ২৮৫০ নম্বর হাদিসেও সামান্য পরিমাণ গনিমত আত্মসাতের ভয়াবহ পরিণতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সহিহ মুসলিমের ১৮৩১ নম্বর হাদিসে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) গনিমতের সম্পদ আত্মসাৎ সম্পর্কে সতর্ক করে বলেন, কেয়ামতের দিন আত্মসাৎ করা সম্পদ নিয়ে উপস্থিত ব্যক্তির পক্ষে তিনি কিছু করতে পারবেন না, কারণ এ বিষয়ে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। হাদিসে উট, ঘোড়া, বকরি, কাপড় ও মূল্যবান সম্পদের উদাহরণের মাধ্যমে এ অপরাধের পরিণতি তুলে ধরা হয়েছে।
সহিহ বুখারির ৪২৩৪ নম্বর হাদিসে খায়বারের একটি ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। সেখানে গনিমতের সম্পদ থেকে একটি চাদর আত্মসাৎ করার কারণে এক ব্যক্তির পরিণতি সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোর সতর্কবাণী দেন। চাদরটি তার নির্ধারিত ভাগে না পড়ায় সেটি আত্মসাৎ হিসেবে গণ্য হয়েছিল।
কোরআন ও হাদিসের এসব নির্দেশনা থেকে বোঝা যায়, গনিমতের সম্পদ ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ বা ব্যবহারের বিষয় নয়। এর বণ্টন নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী হতে হয় এবং আত্মসাৎ থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দায়িত্ব।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।