টেসলা ও স্পেসএক্স একীভূত হলে ইলন মাস্কের সম্পদ বাড়তে পারে
দুই প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য একীভূতকরণের ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই মাস্কের শেয়ার কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা
- আপলোড সময় : ২২-১০-২০২৬ ০৮:২৩:০৩ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২২-১০-২০২৬ ০৮:২৩:০৩ অপরাহ্ন
- ৪ মিনিট পড়ার সময়
- ২০ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
টেসলা ও স্পেসএক্স একীভূত হলে ইলন মাস্কের সম্পদ ১১ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি বাড়তে পারে। দুই প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য একীভূতকরণের ফলে টেসলায় তাঁর কিছু শেয়ারের মালিকানা নির্ধারিত সময়ের আগেই কার্যকর হতে পারে। এতে তাঁর সম্পদ আরও বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছে ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্সের হিসাব।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় এনডিটিভি।
বুধবার স্পেসএক্সের আয় নিয়ে এক আলোচনায় মাস্ক জানান, টেসলা ও স্পেসএক্সের সম্ভাব্য একীভূতকরণের বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য দুই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মাস্ক বলেন, “আমরা এখন প্রায় সুপার-ইন্টেলিজেন্সের নতুন যুগে প্রবেশ করছি। দুই প্রতিষ্ঠানের একসঙ্গে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে।”
সম্ভাব্য একীভূতকরণ মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ব্লুমবার্গের হিসাব অনুযায়ী, চুক্তির ধরন অনুসারে টেসলার প্রায় ২৮ কোটি ৬০ লাখ শেয়ারের মালিকানা ২০২৮ সালের আগেই কার্যকর হতে পারে। এসব শেয়ারের বর্তমান মূল্য ১১ হাজার কোটি ডলারের বেশি। এ ছাড়া টেসলার নতুন পারিশ্রমিক প্যাকেজ থেকেও কয়েক শ কোটি ডলার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও টেসলা ও স্পেসএক্স কোনো জবাব দেয়নি। একীভূতকরণের আলোচনা এবং স্পেসএক্সের ভালো ত্রৈমাসিক আয় প্রকাশের পর বুধবার দুই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়ে যায়। এতে এক দিনেই মাস্কের সম্পদ ৬ হাজার কোটি ডলারের বেশি বৃদ্ধি পায়।
৫৫ বছর বয়সী মাস্ক গত বছর টেসলা থেকে রেকর্ড পরিমাণ পারিশ্রমিক প্যাকেজ পান। নির্ধারিত সব লক্ষ্য পূরণ করতে পারলে এর মূল্য প্রায় এক লাখ কোটি ডলার হতে পারে।
১০ বছর মেয়াদি এই প্যাকেজের শর্তের মধ্যে রয়েছে ১০ লাখ অপটিমাস রোবট তৈরি, বাণিজ্যিকভাবে ১০ লাখ রোবোট্যাক্সি চালু এবং ২ কোটি গাড়ি সরবরাহ করা। পাশাপাশি টেসলার বাজারমূল্য ২ লাখ কোটি থেকে ৮ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যও রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এসব লক্ষ্য পূরণ হয়নি।
কোনো একীভূতকরণের ফলে কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে বড় পরিবর্তন এলে মাস্কের পারিশ্রমিকের শর্ত বদলে যেতে পারে। একীভূত কোম্পানিতে টেসলার বর্তমান শেয়ারধারীদের ভোটাধিকার ৫০ শতাংশের নিচে নেমে গেলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
সে ক্ষেত্রে পারিশ্রমিক পাওয়ার জন্য নির্ধারিত ব্যবসায়িক লক্ষ্য পূরণের শর্ত বাদ পড়তে পারে। পরিবর্তে চুক্তিতে টেসলার যে বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হবে, তার ভিত্তিতে মাস্কের পাওনা হিসাব করা হতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে, একীভূতকরণের সময় টেসলার মূল্য ২ লাখ কোটি ডলার নির্ধারণ করা হলে মাস্ক ৬০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের শেয়ার পেতে পারেন। বর্তমানে টেসলার বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলার।
জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাকডোনাফ স্কুল অব বিজনেসের হিসাববিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক জেসন শ্লোয়েটজার বলেন, চুক্তির ধরন অনুযায়ী কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের শর্ত কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করবে। তবে দুই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারধারীদের উচিত মাস্কের আর্থিক স্বার্থ এবং চুক্তির মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলা।
মাস্কের সম্পদ বৃদ্ধির আরেকটি বড় কারণ হতে পারে ২০১৮ সালে টেসলা থেকে পাওয়া তাঁর পারিশ্রমিক প্যাকেজ।
ওই প্যাকেজের আওতায় মাস্ক প্রায় ৩০ কোটি ৪০ লাখ শেয়ার কেনার বিকল্প সুবিধা পেয়েছিলেন। টেসলার নির্ধারিত বাজারমূল্য ও ব্যবসায়িক লক্ষ্য পূরণ হওয়ায় তিনি সেই সুবিধা অর্জন করেন।
চলতি বছরের শুরুতে মাস্ক ও টেসলার পরিচালনা পর্ষদের মধ্যে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী, কর ও শেয়ার কেনার খরচ মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় নগদ অর্থের চাপ কমাতে শেয়ারগুলো সমন্বয়ের সুযোগ দেওয়া হয়। তবে তাঁকে কোম্পানিতে ধরে রাখার জন্য প্রায় ২৮ কোটি ৬০ লাখ শেয়ারের মালিকানা ২০২৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়।
কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তন হলে এসব শেয়ারের মালিকানা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হতে পারে। কিছু শর্তে নির্ধারিত পাঁচ বছরের আগেই শেয়ার বিক্রির সুযোগও তৈরি হতে পারে।
বর্তমানে এসব শেয়ারের মূল্য ১১ হাজার কোটি ডলারের বেশি। তবে শেয়ারের মালিকানা এখনো কার্যকর না হওয়ায় ব্লুমবার্গের বর্তমান সম্পদের হিসাবে এই মূল্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
স্পেসএক্স থেকেও মাস্ক দুটি পারিশ্রমিক প্যাকেজ পেয়েছেন। এসব প্যাকেজের আওতায় তিনি সর্বোচ্চ ১৩০ কোটি সীমাবদ্ধ শেয়ার পেতে পারেন। এর শর্তের মধ্যে রয়েছে কোম্পানির বাজারমূল্য বৃদ্ধি, মঙ্গল গ্রহে মানুষের বসতি স্থাপন এবং মহাকাশভিত্তিক তথ্যকেন্দ্রের কম্পিউটিং সক্ষমতা বাড়ানো।
স্পেসএক্সের পরিচালনা পর্ষদ একীভূতকরণ বা অধিগ্রহণের পর এসব লক্ষ্যমাত্রা পরিবর্তন করতে পারে। এর আগে মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক স্টার্টআপ এক্সএআই অধিগ্রহণের পরও এমন সমন্বয় করা হয়েছিল।
তবে টেসলা ও স্পেসএক্স একীভূত হলে মাস্কের জন্য নতুন পারিশ্রমিক প্যাকেজ তৈরির চাপ তৈরি হতে পারে। কারণ, টেসলার আগের পারিশ্রমিক প্যাকেজের বড় অংশ নিয়ে আইনি ও চুক্তিগত জটিলতা রয়েছে। পাশাপাশি নতুন প্রতিষ্ঠানে তাঁকে ধরে রাখার জন্য নতুন প্রণোদনার প্রয়োজন হতে পারে।
জেসন শ্লোয়েটজারের মতে, দুই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদই অতীতে বড় অঙ্কের শেয়ারভিত্তিক পারিশ্রমিক দিয়েছে। তাই একীভূত কোম্পানিতেও মাস্ককে ধরে রাখতে নতুন শেয়ার দেওয়ার দাবি উঠতে পারে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।