সারা দেশে সম্মাননা পাচ্ছেন ২৭৬ পেশাদার গাড়িচালক
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে চালকদের পুরস্কৃত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সড়ক সংস্কার ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে
- আপলোড সময় : ২২-১০-২০২৬ ০৩:৪০:০১ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২২-১০-২০২৬ ০৩:৪০:০১ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ২০ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দেশের ২৭৬ জন দক্ষ ও পেশাদার গাড়িচালককে সম্মাননা দিতে যাচ্ছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। আগামী ২৮ অক্টোবর রাজধানীতে কেন্দ্রীয়ভাবে ২০ জন এবং জেলা পর্যায়ে প্রতিটি জেলায় চারজন করে চালককে এ সম্মাননা দেওয়া হবে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের একটি নথি অনুযায়ী, দক্ষ চালকদের উৎসাহিত করা, দায়িত্বশীলভাবে গাড়ি চালানোর প্রবণতা বাড়ানো এবং সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত ১২ অক্টোবর সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় দিবসটি পালনের প্রস্তুতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। সভায় চালকদের সম্মাননার পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরীক্ষা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং সড়কের সাইন, সিগন্যাল ও রোড মার্কিং সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দিবসটি উপলক্ষে ২৮ অক্টোবর সকাল ১০টায় রাজধানীর সড়ক ভবনের সামনে থেকে রোডশো শুরু হবে। এতে সড়ক পরিবহন খাতের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, মালিক-শ্রমিক সংগঠন ও সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) এবং ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সহযোগিতা করবে।
একই দিন সকাল ১১টায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, চালকদের দায়িত্বশীলতা এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
পেশাদার চালকদের শারীরিক সক্ষমতা বিবেচনায় অক্টোবর মাসে স্বাস্থ্য পরীক্ষার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় চোখ পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে চশমা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি ২৮ অক্টোবরের মধ্যে নির্ধারিত সড়কগুলোতে সাইন, সিগন্যাল ও রোড মার্কিং সংস্কার এবং সচল করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
নিরাপদ সড়ক সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে পোস্টার, লিফলেট, স্টিকার, টি-শার্ট, ক্যাপ, ব্যানার ও ফেস্টুন বিতরণ এবং প্রদর্শন করা হবে। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশের পাশাপাশি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতেও সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রচার চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক ব্যবহারে অভ্যস্ত করতে অক্টোবরের মধ্যে ঢাকা মহানগরের ১০টি এবং জেলা পর্যায়ে অন্তত চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়া হবে। এসব কর্মসূচিতে সড়ক পারাপার, ট্রাফিক সংকেত অনুসরণ, ফুটপাত ব্যবহার এবং পথচারী ও চালকদের দায়িত্ব সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করতেও সভা, কর্মশালা ও প্রচারাভিযানের উদ্যোগ রয়েছে।
সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষ চালকদের সম্মাননা দেওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, কর্মঘণ্টা নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, যানবাহনের ফিটনেস এবং নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো নিশ্চিত করাও জরুরি।
বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা আরও জোরদার হবে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।