সাজেকে অবরোধের মধ্যে আটকে পড়া পর্যটকদের ফিরিয়ে আনল সেনাবাহিনী
সড়ক অবরোধের কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরতে বাধ্য পর্যটকেরা, পথে কয়েকটি স্থানে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও কেউ হতাহত হননি।
- আপলোড সময় : ২২-১০-২০২৬ ০৩:০৫:৩৫ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২২-১০-২০২৬ ০৩:০৫:৩৫ অপরাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ১৬ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
সাজেকে সড়ক অবরোধের কারণে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে খাগড়াছড়ি শহরে ফিরিয়ে এনেছে সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে পর্যটকবাহী গাড়িবহরটি শহরে পৌঁছায়।
এর আগে সকাল পৌনে ৯টার দিকে সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন পর্যটকেরা। পথে বিভিন্ন স্থানে অবরোধের মুখে পড়লেও সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় তারা গন্তব্যে পৌঁছান। এ সময় কয়েকটি স্থানে অবরোধকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে পর্যটকদের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক আবুল কাশেম জানান, দুই রাত তিন দিনের ভ্রমণে বুধবার সাজেকে পৌঁছেছিলেন তারা। সেখানে যাওয়ার পর সন্ধ্যায় আন্দোলনের বিষয়ে জানতে পারেন। বৃহস্পতিবার তাদের সাজেক থেকে ফিরিয়ে আনা হয়। আগাম গাড়িভাড়া পরিশোধ করায় এখন ভাড়ার বিষয়টি কীভাবে সমাধান হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তিনি। এ ছাড়া ঢাকায় ফেরার বাসের টিকিটও দুই দিন পরের হওয়ায় বাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
অয়ন নামে আরেক পর্যটক বলেন, সেনাবাহিনীর এসকর্টে পর্যটকবাহী গাড়িগুলো খাগড়াছড়িতে নিয়ে আসা হয়। পথে দুটি স্থানে প্রায় আধা ঘণ্টা করে অপেক্ষা করতে হয়েছে। সড়ক অবরোধের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
তিনি আরও জানান, কয়েকটি স্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে অবরোধকারীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সড়কে ভাঙা ইট ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। তবে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় তারা নিরাপদে শহরে পৌঁছান।
হবিগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক অপু বলেন, ঘুরতে গিয়ে আন্দোলনের কারণে দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়েছে তাদের। বুধবার সাজেকে গেলেও পরিস্থিতির কারণে ভালোভাবে ঘোরাঘুরি করতে পারেননি। সন্ধ্যা থেকেই আন্দোলনের বিভিন্ন খবর শুনে নিরাপদে ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় খাগড়াছড়িতে পৌঁছেছেন।
অপু আরও বলেন, ফেরার পথে দুটি স্থানে তাদের গাড়িবহর আটকে যায়। বহরের সামনে সেনাবাহিনীর কয়েকটি গাড়ি ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আন্দোলনকারীরা সেনাবাহিনী ও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে নিরাপত্তা বাহিনী অবরোধকারীদের সড়কের দুই পাশে সরিয়ে পর্যটকবাহী গাড়িগুলোকে ওই এলাকা পার করে দেয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে সাজেকে ২ হাজার ৬০০ জনের বেশি পর্যটক অবস্থান করছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সেনাবাহিনী সহযোগিতা করে।
সাজেকে সড়ক অবরোধের কর্মসূচি পালন করছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন নামে দুটি সংগঠন। সংগঠন দুটি ইউপিডিএফের (প্রসিত গ্রুপ) সমর্থিত বলে প্রচার রয়েছে।
অবরোধকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে, সাজেক থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস-সন্তু গ্রুপ) সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে দেওয়া। সংগঠন দুটির অভিযোগ, গত কয়েক দিন ধরে পিসিজেএসএসের সশস্ত্র সদস্যরা সাজেকের কয়েকটি এলাকায় অবস্থান করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছেন এবং সাধারণ মানুষকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষার দাবিতে তারা অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
অবরোধ ও আন্দোলনের কারণে সাজেকে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকদের ভ্রমণ ব্যাহত হয়েছে। অনেকে নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। এতে পরিবহন ভাড়া এবং ফেরার বাসের টিকিট নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন পর্যটকেরা।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।