তরুণ প্রজন্ম কেন ধর্ম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, সমাধান কী
শৈশবে ধর্মীয় শিক্ষার ঘাটতি, পারিবারিক উদাসীনতা ও সামাজিক প্রভাব তরুণদের ধর্মীয় অনুশীলনে আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে
- আপলোড সময় : ২১-১০-২০২৬ ১০:২৭:০৩ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২১-১০-২০২৬ ১০:২৭:০৩ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ২১ বার পঠিত
ছবি—সংগৃহীত
শৈশবে ধর্মীয় শিক্ষার ঘাটতি, পরিবারের অনুশীলনগত অসংগতি এবং পরিবর্তিত সামাজিক পরিবেশ তরুণ প্রজন্মের ধর্মীয় জীবনকে প্রভাবিত করতে পারে। মুসলিম পরিবারে অনেক শিশুকে ধর্মীয় আচার পালনে উৎসাহিত করা হলেও সেসবের তাৎপর্য বুঝিয়ে বলা হয় না। ফলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধর্মীয় বিশ্বাস ও দৈনন্দিন জীবনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ পরিস্থিতিতে পরিবারে ধর্মীয় চর্চা, যুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং তরুণদের প্রশ্নের প্রতি সহনশীল মনোভাব গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
একটি শিশুর জন্মের পর পরিবারে নানা আয়োজন ও প্রস্তুতি নেওয়া হয়। তবে আনন্দ উদযাপনের ব্যস্ততায় কখনো ধর্মীয় অনুশীলন ও সুন্নাহভিত্তিক আমলগুলো উপেক্ষিত থাকে। পরবর্তী সময়ে সন্তানকে নামাজ পড়তে বলা হলেও অভিভাবকের নিজেদের নিয়মিত ইবাদত কিংবা ধর্মীয় জ্ঞানের ঘাটতি তার কাছে পরস্পরবিরোধী বার্তা পৌঁছে দিতে পারে। একইভাবে, কোরআন পড়তে শেখানো হলেও এর অর্থ ও শিক্ষা বোঝার সুযোগ না পেলে ধর্মের সঙ্গে শিশুর গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠা কঠিন হতে পারে।
কৈশোরে জীবন, জগৎ ও সৃষ্টির উদ্দেশ্য নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়। এসব প্রশ্নের উত্তর যুক্তি ও আন্তরিকতার সঙ্গে না দিয়ে ধমক দিয়ে থামিয়ে দিলে ধর্ম সম্পর্কে জানার আগ্রহ কমে যেতে পারে। অন্যদিকে, পড়াশোনা ও পরীক্ষায় ভালো ফলাফলকে একমাত্র সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করায় নৈতিকতা, আত্মিক বিকাশ ও ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব অনেক সময় আড়ালে পড়ে যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে পরিবার থেকে দূরে গিয়ে তরুণেরা নতুন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের মুখোমুখি হন। সহপাঠীদের জীবনযাপন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভোগবাদী সংস্কৃতি এবং জনপ্রিয় হওয়ার আকাঙ্ক্ষা তাঁদের চিন্তা ও আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে। শৈশব থেকে ধর্মীয় বিশ্বাসের অর্থ ও মূল্যবোধ যথাযথভাবে বোঝার সুযোগ না পেলে এ পরিবেশে ধর্মীয় অনুশীলন ধরে রাখা কারও কারও জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
ইসলামে পরিবারের সদস্যদের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনের সুরা তাহরিমের ৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘হে ইমানদারগণ, তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা করো জাহান্নামের আগুন থেকে।’
শিশুর মধ্যে ধর্মীয় বিশ্বাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ইসলামের মৌলিক আকিদা সম্পর্কে জ্ঞান দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, ফেরেশতা, আসমানি কিতাব, রাসুলগণ, পরকাল এবং তাকদিরের প্রতি বিশ্বাস ইসলামের আকিদার মৌলিক বিষয়। এসব বিষয় শুধু মুখস্থ করানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত করে বোঝানো প্রয়োজন।
তরুণদের ধর্মের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে পরিবারে অভিভাবকদের নিজেদের আচরণে ইতিবাচক উদাহরণ তৈরি করা, শিশুদের বয়স উপযোগী ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া এবং তাদের প্রশ্নের উত্তর আন্তরিকভাবে ব্যাখ্যা করা জরুরি। পাশাপাশি ধর্মীয় অনুশীলনকে ভয় বা জবরদস্তির পরিবর্তে উপলব্ধি, নৈতিকতা ও আত্মিক বিকাশের সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন। শৈশব থেকেই এমন পরিবেশ তৈরি করা গেলে তরুণদের মধ্যে ধর্মীয় বিশ্বাস ও জীবনচর্চার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।