পূজায় শুভেচ্ছা জানানো, অংশগ্রহণ এর ব্যাপারে শারীয়াহ কী বলে?
অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণ, পূজার প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও শুভেচ্ছা জানানো নিয়ে ইসলামী ফিকহের মাসআলা
- আপলোড সময় : ২১-১০-২০২৬ ০৬:০১:২৫ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২১-১০-২০২৬ ০৬:০৮:১৪ পূর্বাহ্ন
- ৪ মিনিট পড়ার সময়
- ২৬ বার পঠিত
প্রতীকী ছবি- ( সংগৃহীত)
সংগৃহীত: হানাফি ফিকহ ফেসবুক গ্রুপ থেকে
পূজার সময় সেখানে অংশগ্রহণ করা, মূর্তির সামনে তাদের মতো আচরণ করা এবং মূর্তির নাম নিয়ে নমস্কার জানানো—সবকিছুই কু-ফ-রি কাজ। কেউ দুষ্টুমি করে করলেও ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে।
এমনকি যদি কেউ তাদের কুফর বা পূজার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে, অথবা তাদের শিরকে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে, তবে নিঃসন্দেহে তার ঈমান সঙ্গে সঙ্গে নষ্ট হয়ে যাবে—এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে কোনো ইখতিলাফ নেই।
রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেনঃ “শীঘ্রই আমার উম্মতের কিছু লোক মূর্তি পূজা করবে, আর কিছু লোক মূর্তি পূজারীদের সাথে মিশে যাবে।” সুনান ইবনে মাজাহ, হাদীস: ৩৯৫২
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন,
مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ.
যে ব্যক্তি যে জাতির সাদৃশ্য গ্রহণ করবে, সে তাদেরই বলে গণ্য হবে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪০৩১)
কোনো জাতির উৎসব হচ্ছে সে জাতির শিআর বা নিদর্শন। অতএব, বিজাতির নিদর্শনাবলির ক্ষেত্রে যে তাদের সাদৃশ্য গ্রহণ করে, সে যে হাদীসে উল্লিখিত ধমকির অন্তর্ভুক্ত, এ বিষয়ে কি কোনো সন্দেহ আছে?
আরেক হাদীসে এসেছে,
مَنْ كَثَّرَ سَوَادَ قَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ وَمَنْ رَضِيَ عَمَلَ قَوْمٍ كَانَ شَرِيكًا لِمَنْ عَمِلَهُ.
যে ব্যক্তি কোনো কওমের দল ভারী করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে। আর যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের কাজের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করবে, সে ওই কাজের অংশীদার বলে গণ্য হবে। (মুসনাদে আবু ইয়ালা; আল-মাতালিবুল ‘আলিয়া, খ. ৪, পৃ. ৩১৫; কিতাবুয যুহদি ওয়ার রাকায়িক, ইবনুল মুবারক, পৃ. ৪৪৭, অধ্যায়: باب استماع اللهو; নাসবুর রায়াহ, খ. ৪, পৃ. ৩৪৬–৩৪৭; আদ্দিরায়াহ ফী তাখরীজি আহাদিসিল হিদায়া; ফাতহুল বারী, ইবনে হাজার, খ. ১৩, পৃ. ৩৭–৩৮, হাদীস ৭০৮৫; আল-মাকাসিদুল হাসানা, খ. ৫, পৃ. ১৮১।)
হযরত উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন,
اجْتَنِبُوا أَعْدَاءَ اللهِ فِي عِيدِهِمْ.
তোমরা আল্লাহর শত্রুদের উৎসবের সময় তাদের থেকে দূরে থাকো। (আস-সুনানুল কুবরা লিলবাইহাকী, বর্ণনা ১৮৮৬২; ইকতিযাউস সিরাতিল মুসতাকীম, খ. ১, পৃ. ৪৫৬–৪৫৭।)
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু বলেন,
«من بنى ببلاد الأعاجم فصنع نيروزهم ومهرجانهم وتشبه بهم حتى يموت وهو كذلك حشر معهم يوم القيامة»
“যে ব্যক্তি অনারব দেশে বসবাস করে তাদের নওরোজ বা মেহরজান উৎসব পালন করবে এবং তাদের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন করবে— এমনকি এ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, কিয়ামতের দিন তার হাশর সেসব বিধর্মীদের সাথেই হবে।” [সুনানুল কুবরা, বাইহাকী ৯/৪৩২ হাদীস: ১৫৫৬৩; ইক্বতিযাউস সিরাতিল মুস্তাকীম, ইবনু তাইমিয়া ১/৭৫৪ —সনদ সহীহ।]
ইমাম ইবনু তাইমিয়া রহ. এ বাণীর «حشر معهم» (তাদের সাথেই হাশর হবে) অংশের ব্যাখ্যায় বলেনঃ “এতে বুঝা যায় যে, আব্দুল্লাহ ইবনু উমর রাযি. তাদের এসব উৎসব ও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীকে হয় ক|ফের সাব্যস্ত করেছেন, অথবা এমন এক কবীরাহ গুনাহের শামিল করেছেন যার কারণে তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে যায়।” [ইকতিযাউস সিরাতিল মুস্তাকীম ১/৯৫৪]
আল্লামা ইবনে নুজাইম রহ. (৯৭০ হি.) বলেন, অগ্নিপূজকদের নববর্ষে অংশগ্রহণ করলে এবং তাদের সাথে তাদের ওই দিনের কার্যাবলির প্রতি সম্মতি জ্ঞাপন করলে অথবা শুধুমাত্র নববর্ষের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে সেদিন কিছু খরিদ করলে, যা সে খরিদ করার ছিল না এবং তা পানাহারের জন্যও নয়, এমনিভাবে ওই দিনের সম্মানার্থে কোনো মুশরিককে হাদিয়া প্রদান করলে; চাই তা একটা ডিমই হোক না কেন, সর্বসম্মতভাবে কাফের হয়ে যাবে।” [আলবাহরুর রায়িক: ৫/১৩৩; হিন্দিয়া: ২/২৭৬]
ফাতহুল বারীতে এসেছে—
«من أهدى لهم يوم عيدهم بطيخة بقصد تعظيم العيد فقد كفر بالله تعالى»
যে ব্যক্তি তাদের পূজা-উৎসবের সম্মানার্থে একটি তরমুজ (বা অন্য কোনো হাদিয়া) উপহার হিসেবে দেয়, সে আল্লাহর সাথে কুফুরী অবস্থায় পতিত হয়। অর্থাৎ কুফরি করল। [ফাতহুল বারী ২/৩১৫]
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রহ. বলেন—“কোনো বিশেষ কুফরি কাজের প্রতি শুভেচ্ছা জানানো ইজমা অনুসারে হারাম। উদাহরণস্বরূপ, কাফেরদের পূজা-উৎসব বা ব্রত পালনকে স্বাগত জানিয়ে বলা— ‘তোমাদের উৎসব বরকতময় হউক’ অথবা পূজার শুভেচ্ছা—এটি হারাম।
এটি এমনই একটি জঘন্য কাজ যে, আল্লাহর নিকট এটি সবচেয়ে বড় গুনাহের অন্তর্ভুক্ত, এমনকি মদপান, হত্যা, অবৈধ যৌনাচার ইত্যাদির ক্ষেত্রে শুভেচ্ছা জানানো থেকেও ভয়াবহ গোনাহ। অনেক মানুষ আছে যাদের দ্বীনের কোনো মূল্য নেই। তারা তাদের কর্মকাণ্ডের নিকৃষ্টতা ও ভয়াবহ পরিণতি জানে না। তাই যে ব্যক্তি কোনো বান্দার গোনাহ, বিদআত বা কুফুরী কাজে শুভেচ্ছা জানায়, সে সরাসরি মহান আল্লাহর আযাব ও ক্রোধকে ডেকে আনে।’’ [আহকামু আহলিয যিম্মাহ ১/১৬১]
আল-মুহীতুল বুরহানী, ৭/৩৯৭; শরহুল ফিকহিল আকবার, পৃ. ১৮৬; আল-বাহরুর রায়েক, ৫/১২৫।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।