স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের নিরাপত্তা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা সাত দিন সারা দেশে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলবৎ থাকবে। এই সময়ের মধ্যে নাশকতা বা যেকোনো ধরনের উসকানিমূলক কার্যক্রম ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক কনটেন্ট ও গুজব ছড়ানো বন্ধে বিশেষ সাইবার মনিটরিং সেল কাজ করবে। উপদেষ্টা স্পষ্ট করেছেন, জনগণের জন্য বড় কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই, বরং নাগরিকরা যাতে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসতে পারেন সেই পরিবেশ সৃষ্টি করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
এবারের নির্বাচনে প্রায় ১২ কোটি ৭৫ লাখ ভোটার ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। বিশাল এই কর্মযজ্ঞ সামলাতে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার আনসার ও ভিডিপি সদস্য, ১ লাখ ৫০ হাজার পুলিশ, ১ লাখ সেনা সদস্য এবং ৩৫ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। সেনাবাহিনী ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ বিধান অনুযায়ী স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা করবে। উপকূলীয় এলাকায় কোস্টগার্ড এবং বিশেষ অভিযান ও টহলের জন্য র্যাব সার্বক্ষণিক মোতায়েন থাকবে। সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রভেদে সশস্ত্র পুলিশ ও আনসার সদস্যের সংখ্যায় ভিন্নতা রাখা হয়েছে, যাতে কোনো এলাকা অরক্ষিত না থাকে।
দুর্গম ও পার্বত্য এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি প্রিসাইডিং অফিসারের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য আলাদা সশস্ত্র আনসার সদস্য নিয়োগসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের কেন্দ্রগুলোতে মোতায়েন থাকবে অতিরিক্ত পুলিশ ও আনসার সদস্য। এছাড়া জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর অধীনে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে, যারা নির্বাচন সংক্রান্ত অভিযোগ বা তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের অধীনে গঠিত আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেলের মাধ্যমে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশ একযোগে এলাকাভিত্তিক অভিযান ও চেকপোস্ট কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
(সূত্র: বাসস)
(সূত্র: বাসস)
ডেস্ক রিপোর্ট