বিএনপির অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তপ্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬ কেন্দ্র করে একটি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে এই নির্বাচনী কমিটির চেয়ারম্যান এবং দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিটির মূল লক্ষ্য হবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির সার্বিক প্রস্তুতি, সমন্বয় ও রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণকে এগিয়ে নেওয়া।
বৃহস্পতিবার বিএনপির পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। সেখানে জানানো হয়, কমিটিতে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান এবং ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। প্রধান সমন্বয়ক সদস্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মো. ইসমাইল জবিউল্লাহকে, যিনি কমিটির কার্যক্রম সমন্বয় ও মাঠ পর্যায়ের যোগাযোগে ভূমিকা রাখবেন বলে দলীয় সূত্রে ধারণা করা হচ্ছে।
কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত সদস্যরা হলেন: অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিজন কান্তি সরকার, হাবিব উন নবী খান সোহেল, ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার, ড. মওদুদ হোসাইন আলমগীর পাভেল, ড. মাহদী আমিন, সালেহ শিবলী, এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান, ড. সাইমুম পারভেজ, রেহান আসাদ, জুবায়ের বাবু, মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, আব্দুল কাইয়ুম, ব্যারিস্টার গিয়াসউদ্দিন রিমন, হুমায়ুন কবির, এ বি এম আব্দুস সাত্তার, ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া, মোস্তাকুর রহমান, অ্যাডভোকেট বেলায়েত হোসেন মৃধা, মেহেদুল ইসলাম, ড. ফরহাদ হালিম ডোনার, প্রফেসর ড. মোর্শেদ হাসান খান, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম সজল, প্রফেসর ড. হারুন অর রশিদ, প্রকৌশলী শোয়েব বাশারী হাবলু, ড. কামরুজ্জামান কায়সার, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, আব্দুল মোনায়েম মুন্না, মিসেস আফরোজা আব্বাস, মনির খান, আনম খলিলুর রহমান ইব্রাহিম, ইয়াসিন আলী, আবুল কালাম আজাদ, মাওলানা কাজী মো. সেলিম রেজা, রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং আনোয়ার হোসেন।
দলের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনী প্রস্তুতি ও সাংগঠনিক পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা চললেও, আনুষ্ঠানিকভাবে এমন একটি নির্বাচনকেন্দ্রিক কমিটি ঘোষণাকে বিএনপির কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠ পর্যায়ে সংগঠনকে সক্রিয় রাখা, প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় সহায়তা এবং নির্বাচনী ইশতেহার ও জনসংযোগ কার্যক্রমে সমন্বিত ভূমিকা রাখার দায়িত্বও এই কমিটির ওপর বর্তাতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডেস্ক রিপোর্ট