আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ ডিসেম্বর বিকেলে পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকাকালীন দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর সেখানে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পলাতক রয়েছেন প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ। তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে জানান, ফয়সাল ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক অর্থপ্রবাহের প্রমাণ পাওয়া গেছে। বর্তমানে এসব হিসাবে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা জমা রয়েছে। এই অর্থ যাতে সরিয়ে নেওয়া না যায় এবং অর্থের প্রকৃত উৎস নিশ্চিত করতে হিসাবগুলো দ্রুত ফ্রিজ করা প্রয়োজন ছিল।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১২৭ কোটি টাকার এই বিশাল অংকের লেনদেন কোনো বৈধ ব্যবসার মাধ্যমে হয়েছে নাকি এই অর্থ হত্যাকাণ্ডের কোনো 'ফান্ডিং' বা রাজনৈতিক নাশকতার অংশ, তা খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। উল্লেখ্য, হাদিকে গুলির ঘটনায় প্রথমে ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যা তাঁর মৃত্যুর পর নিয়মিত হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়। পুলিশ বর্তমানে ফয়সাল করিমকে গ্রেপ্তারের জন্য দেশব্যাপী অভিযান চালাচ্ছে।
২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ঠিক পরদিনই এই চাঞ্চল্যকর হামলার ঘটনাটি ঘটে। ওসামন হাদির মৃত্যুর পর থেকে ইনকিলাব মঞ্চসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করে আসছে। আদালতের আজকের এই আদেশ খুনিদের আর্থিক নেটওয়ার্ক ছিন্ন করার ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডেস্ক রিপোর্ট