ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী লড়াইয়ের এই অকুতোভয় সেনানীকে 'অমর সৈনিক' হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় এক অপূরণীয় ক্ষতি। ভাষণে তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শহীদ হাদির স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানের পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণের অঙ্গীকার করেন অধ্যাপক ইউনূস। রাষ্ট্রীয় শোক পালনকালে শনিবার দেশের সকল সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। এছাড়া শুক্রবার বাদ জুমা দেশের সকল মসজিদে বিশেষ দোয়া এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শরিফ ওসমান হাদির চিকিৎসার বিষয়ে সিঙ্গাপুর সরকারের আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন প্রধান উপদেষ্টা। বিশেষ করে সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণানের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি, যিনি নিজে একজন চিকিৎসক হিসেবে হাদির চিকিৎসার নিয়মিত তদারকি করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা তাঁর ভাষণে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হাদির ওপর চালানো নৃশংস হামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক অপরাধীকে দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের শৈথিল্য বরদাশত করা হবে না বলে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন।
শহীদ হাদিকে প্রতিবাদের 'আইকন' হিসেবে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তি বিপ্লবীদের কণ্ঠ স্তব্ধ করতেই এই তরুণ নেতার ওপর হামলা চালিয়েছিল। কিন্তু রক্তপাত বা ভয় দেখিয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ থামানো যাবে না। হাদির স্বপ্ন ছিল আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখা। তাঁর সেই অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায়িত্ব এখন পুরো জাতির ওপর ন্যস্ত। এই শোকাবহ সময়ে দেশবাসীকে ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি কোনো ধরনের গুজব বা হঠকারী সিদ্ধান্তে কান না দেওয়ার অনুরোধ করেন। ঐক্যবদ্ধভাবে সকল অপশক্তিকে পরাজিত করে ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই শহীদ হাদির প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ডেস্ক রিপোর্ট