বিশ্বখ্যাত ডিজিটাল পেমেন্ট জায়ান্ট পেপ্যাল (PayPal) এবার পূর্ণাঙ্গ ব্যাংকিং সেবা প্রদানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রে লাইসেন্সের আবেদন করেছে। প্রতিষ্ঠানটি মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, তারা ‘পেপ্যাল ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ইউটাহ ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস এবং ফেডারেল ডিপোজিট ইনস্যুরেন্স করপোরেশনে (FDIC) প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে পেপ্যাল কেবল পেমেন্ট গেটওয়ে হিসেবে নয়, বরং একটি নিয়ন্ত্রিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সরাসরি গ্রাহকের আমানত গ্রহণ ও ঋণ প্রদানের সুযোগ পাবে।
পেপ্যালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অ্যালেক্স ক্রিস এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “পুঁজির নিরাপত্তা ও সহজলভ্যতা ছোট ব্যবসার প্রসারে অন্যতম প্রধান বাধা। নিজস্ব ব্যাংক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সরাসরি সহযোগিতা করতে পারব, যা মার্কিন অর্থনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার করবে।” মূলত থার্ড-পার্টি বা তৃতীয় পক্ষের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি ব্যাংকিং সেবা দেওয়াই কোম্পানিটির মূল লক্ষ্য।
পেপ্যালের এই যাত্রার ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ। ১৯৯৮ সালে ইলন মাস্ক ও পিটার থিয়েলের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানিটি ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ৪ লাখ ২০ হাজারের বেশি গ্রাহককে প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা দিয়েছে। তবে ব্যাংকিং লাইসেন্স পেলে কোম্পানিটি তাদের গ্রাহকদের আমানতকে সরাসরি এফডিআইসি-এর (FDIC) বিমার আওতায় আনতে পারবে, যা গ্রাহকদের অর্থের নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পেপ্যালের এই আবেদন এমন এক সময়ে এলো যখন যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে একাধিক ফিনটেক ও ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান। চলতি বছরেই নুবাঙ্ক এবং কয়েনবেসের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকিং চার্টারের জন্য আবেদন করেছে। সেই প্রতিযোগিতায় এবার নাম লেখাল পেপ্যাল। এর ফলে আগামীতে প্রথাগত ব্যাংকিং খাতের সঙ্গে ফিনটেক জায়ান্টদের এক নতুন লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
ডেস্ক রিপোর্ট