ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত বলে দাবি করা একটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বেশ কিছু অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করার কথা জানিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। নরসিংদী সদর থানার একটি বিলের পানির ভেতর থেকে এসব অস্ত্র উদ্ধার করে বাহিনীটি, যা রাজধানীর পুরানা পল্টনে নির্বাচন–কেন্দ্রিক এই হামলার তদন্তে নতুন আলামত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
র্যাবের তথ্যমতে, নরসিংদীর ওই বিল থেকে ২টি বিদেশি পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন, ১টি খেলনা পিস্তল ও ৪১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে এবং মো. ফয়সাল (২৫) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাটির প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সল করিম মাসুদের শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই অভিযান চালানো হয়; ওয়াহিদের বাড়ি, অর্থাৎ ফয়সলের শ্বশুরবাড়ি, নরসিংদী সদর এলাকায়।
এর আগে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের কর্নেল গলিতে ফয়সল করিমের বোনের বাসা ও পাশের ভবনের ফাঁকা স্থান থেকে ২টি ম্যাগাজিন, ১১টি গুলি ও একটি চাকু উদ্ধার করে র্যাব। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঘটনাদিন বেলা ১১টার দিকে ফয়সল করিম ও তাঁর সহযোগী আলমগীর মোটরসাইকেলে ওই বাসা থেকে বের হন এবং বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাসার পাশের ফাঁকা জায়গা থেকে কিছু বের করতে দেখা যায় তাদের, পরে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে সেখান থেকে সরে যান তারা।
জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশায় থাকা স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। মোটরসাইকেলের পেছনে বসা ব্যক্তি লক্ষ্য করে গুলি করার পরপরই তারা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে; গুরুতর আহত ওসমান হাদি বর্তমানে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন এবং তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
তদন্ত–সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হামলার আগের রাতেই ফয়সল করিম ও আলমগীর সাভারের এক রিসোর্টে ছিলেন এবং পরদিন সকালে সেখান থেকে মোটরসাইকেলে ঢাকায় এসে আগারগাঁওয়ে ফয়সলের বোনের বাসায় ওঠেন। হামলার পর তারা সেখানেই ফিরে যায় এবং পরে অটোরিকশা ও অন্য যানবাহন বদলে বদলে আমিনবাজার হয়ে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত পথে ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে ধারণা করছে তদন্তকারী সংস্থাগুলো।
ডেস্ক রিপোর্ট