নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীসহ আটজনের বিরুদ্ধে প্রায় ৮৭ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামালা দায়ের করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির বিপুল পরিমাণ জমি ভুয়া দলিল সৃজন করে জবরদখল ও লেনদেনের মাধ্যমে অবৈধ অর্থপাচার করা হয়েছে।
দুপুরে দায়ের করা এই মামলায় গোলাম দস্তগীর গাজীর সঙ্গে তার এপিএস এমদাদুল হকসহ মোট আটজনকে আসামি করা হয়েছে; তারা হলো— গোলাম দস্তগীর গাজী, এমদাদুল হক, সৈয়দা ফেরদৌসী আলম নীলা, তোফায়েল আহমেদ আলমাছ, মো. মাহাবুবুর রহমান জাকারিয়া মোল্লা, আলফাজ উদ্দিন ও দিমন ভূঁইয়া। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ২০ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে শাহ আলম, আব্দুস সোবহান, নাঈম প্রধান, হাসিনা বেগম, আলেয়া, ইয়াছিন প্রধান, সানজুরা বেগম, আশরাফ উদ্দিন ভুঁইয়া, মোস্তফা মনোয়ার ভুঁইয়া, হাবিব খান, রাশিদা ভুঁইয়া, আমজাদ আলী ভুঁইয়া, মোবারক ভুঁইয়া, নূর-ই-তাছলীম তাপস, মাহবুবুল হক ভুঁইয়া ও মাহমুদুল হকের মালিকানাধীন মোট ২৪০১.৪৬ শতাংশ জমি প্রতারণা ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে দখল ও হস্তান্তর করা হয়।
সরকারি বাজারদর অনুযায়ী প্রতি শতাংশ ৩ লাখ ৬১ হাজার ৪০০ টাকা হিসেবে এসব জমির মূল্য ধরা হয়েছে ৮৬ কোটি ৭৮ লাখ ৮৭ হাজার ৬৪৪ টাকা; এই সম্পত্তি জবরদখল করে হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতাভুক্ত অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। আদালত ইতোমধ্যে উক্ত স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক (জব্দ) করার আদেশ দিয়েছে, যার সম্ভাব্য বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৪০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সবজেল হোসেন জানিয়েছেন, মামলাটি থানায় রুজু হলেও তদন্তের দায়িত্ব রয়েছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের ওপর; তারা ইতোমধ্যে নথিপত্র সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আসামিদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ডেস্ক রিপোর্ট