পেপ্যাল একটি বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল পেমেন্ট গেটওয়ে, যা ব্যবহারকারীদের অনলাইনে অর্থ পাঠানো ও গ্রহণ করা, বিল পরিশোধ করা এবং আন্তর্জাতিক কেনাকাটা করার সুবিধা দেয়। এটি ব্যবহারকারীর ব্যাংক বা কার্ডের সঙ্গে নিরাপদভাবে সংযুক্ত হয়ে দ্রুত লেনদেন সম্পন্ন করে। বিশ্বের ২০০-এর বেশি দেশে এটি ফ্রিল্যান্সার, অনলাইন ব্যবসা এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
পেপ্যাল চালু হলে বাংলাদেশের আউটসোর্সিং বা ফ্রিল্যান্সিং খাতের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি আসবে বলে জানিয়েছেন গভর্নর। তিনি বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ের অভাবে ফ্রিল্যান্সাররা বিদেশ থেকে তাদের আয়ের অর্থ দেশে আনার সময় বিড়ম্বনার শিকার হন এবং অনেক সময় প্রাপ্য পারিশ্রমিকও পান না। পেপ্যাল এই সমস্যার সমাধান করবে।
এছাড়াও, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংকের মাধ্যমে লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) খোলার মাধ্যমে ছোট চালানে পণ্য রপ্তানি করা কঠিন। পেপ্যালের মতো প্ল্যাটফর্ম চালু হলে তারা সহজেই ইউরোপ, আমেরিকা ও বিশ্বের অন্যান্য দেশে পণ্য রপ্তানি করতে পারবেন এবং পণ্যের দাম দ্রুত দেশে আনতে সক্ষম হবেন।
অনুষ্ঠানে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর দেশের অর্থনীতিতে নগদ লেনদেন কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দেশের দুর্নীতির মূলে রয়েছে নগদ টাকার লেনদেন, এবং যেখানে যেখানে দুর্নীতি আছে, সেখানে সেখানেই নগদ লেনদেন জড়িত। তিনি আরও জানান, টাকা ছাপানো ও ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধাপে ধাপে নগদ লেনদেন কমানোর পরিকল্পনা করছে।
কৃষি খাতের উন্নয়নে ঋণ প্রবাহ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে গভর্নর বলেন, বর্তমানে মোট ঋণের মাত্র ২ শতাংশ কৃষি খাতে দেওয়া হয়, যা বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করা প্রয়োজন। তিনি আরও জানান, এসএমই ঋণের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল থাকলেও ব্যাংকগুলোর সক্ষমতার অভাবে তা যথাযথভাবে বিতরণ করা যাচ্ছে না।
তবে খাদ্যশস্য উৎপাদনে দেশের ঐতিহাসিক সাফল্যের চিত্রও তিনি তুলে ধরেন। ১৯৭১ সালে দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদন ছিল ১ কোটি ৩০ লাখ টন, যা বর্তমানে প্রায় ৪ কোটি টনে উন্নীত হয়েছে। জনসংখ্যা দ্বিগুণ হলেও উৎপাদন তিনগুণেরও বেশি বাড়া একটি বিশাল অর্জন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে কৃষিখাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৮ জন ব্যক্তি ও ৩টি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়।
ডেস্ক রিপোর্ট