প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার রাতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কমিশন এই ঘটনার প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়েছে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বেশকিছু সুপারিশ করেছে।
কমিশন প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান জানান, ১৬ বছর আগের এ ঘটনার বহু আলামত ধ্বংস হওয়া এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অনেকের বিদেশে চলে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও তাঁরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখেছেন। তাঁরা সাক্ষী, তদন্তে জড়িত কর্মকর্তা এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছেন।
কমিশনের ফাইন্ডিংস সম্পর্কে সদস্য জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার জানান, তদন্তে কিছু বাহ্যিক ও প্রকৃত কারণ উদঘাটিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে উঠে আসা গুরুতর অভিযোগগুলো হলো:
পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড: এই হত্যাযজ্ঞ ছিল সুপরিকল্পিত।
হত্যাকাণ্ডের পেছনে তৎকালীন সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস প্রধান সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেছিলেন।
রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা: তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সরাসরি জড়িত থাকার শক্তিশালী প্রমাণ মিলেছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ জড়িতদের রক্ষা করতে সরাসরি ভূমিকা রেখেছে এবং তারা ২০-২৫ জনের একটি মিছিল নিয়ে পিলখানায় ঢুকেছিল, যা বের হওয়ার সময় দুই শতাধিক মানুষের মিছিলে পরিণত হয়।
পুরো ঘটনাটি সংঘটিত করার ক্ষেত্রে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
দায় ও ব্যর্থতা: এ ঘটনার দায় তৎকালীন সরকার প্রধান থেকে শুরু করে সেনাপ্রধান, পুলিশ, র্যাব এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ওপরও বর্তায়।
মিডিয়ার ভূমিকা: ঘটনার সময় কিছু প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং কয়েকজন সাংবাদিকের ভূমিকা অপেশাদার ছিল।
গোপন বৈঠকের তথ্য: হত্যাকাণ্ডের সময় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় (তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যেসব বিডিআর সদস্যের বৈঠক হয়েছিল, তাদের সঠিক নাম, পরিচয় ও তথ্য সংরক্ষণ করা হয়নি।
কমিশন তাদের প্রতিবেদনে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছে, যাতে ভবিষ্যতে বাহিনীগুলোতে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো যায় এবং এই হত্যাকাণ্ডের শিকার ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পান। প্রতিবেদনে দায় নিরূপণের ক্ষেত্রে এটিকে রাজনৈতিকভাবে সমাধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলেও উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ সহকারী অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আব্দুল হাফিজ এবং স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনি উপস্থিত ছিলেন।
ডেস্ক রিপোর্ট