কনটেন্ট অপসারণ অনুরোধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই: ব্যাখ্যা দিল সরকার, আওয়ামী আমলের চেয়ে সংখ্যায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ২৯-১১-২০২৫ ০৭:৫৫:১৮ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৯-১১-২০২৫ ০৮:০২:৫৭ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৪০ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
গুগলের ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্টে বাংলাদেশ থেকে করা কনটেন্ট অপসারণের অনুরোধ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছে। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো বার্তায় নিশ্চিত করা হয়েছে যে, মিসইনফরমেশন, প্রোপাগান্ডা এবং বেআইনি মানহানিকর তথ্য দিয়ে চরিত্রহননের প্রচেষ্টা ঠেকাতে ব্যতীত দেশের কোনো গণমাধ্যমের সংবাদ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট, ভিডিও, রিলস বা অনলাইন নিবন্ধ সরাতে কোনো প্ল্যাটফর্মকে অনুরোধ করা হয়নি। সরকার আরও জানিয়েছে, তারা কোনো দলীয় বট বা সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী পরিচালনা করে না এবং জানুয়ারি থেকে জুন ২০২৫ এই ছয় মাসে পাঠানো অনুরোধের সংখ্যা (২৭৯টি) পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সর্বোচ্চ অনুরোধের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো 'গুগলকে কনটেন্ট সরাতে অনুরোধের সংখ্যা বিষয়ে সরকারের ব্যাখ্যা' শীর্ষক বার্তায় বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মাধ্যমে বিটিআরসি কেবল সেই অনুরোধগুলো গুগলসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে পাঠায় যা মিসইনফরমেশন, প্রোপাগান্ডা ও বেআইনি মানহানিকর তথ্যের ভিত্তিতে কারও চরিত্রহননের প্রচেষ্টা ঠেকানোর জন্য প্রয়োজনীয়।
সময়কাল- সরকার- মোট অনুরোধের সংখ্যা- তুলনা (আ. লীগ সর্বোচ্চ)
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো 'গুগলকে কনটেন্ট সরাতে অনুরোধের সংখ্যা বিষয়ে সরকারের ব্যাখ্যা' শীর্ষক বার্তায় বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মাধ্যমে বিটিআরসি কেবল সেই অনুরোধগুলো গুগলসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে পাঠায় যা মিসইনফরমেশন, প্রোপাগান্ডা ও বেআইনি মানহানিকর তথ্যের ভিত্তিতে কারও চরিত্রহননের প্রচেষ্টা ঠেকানোর জন্য প্রয়োজনীয়।
গুগলের ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে সরকার জানিয়েছে, অনুরোধের সংখ্যা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল:
সময়কাল- সরকার- মোট অনুরোধের সংখ্যা- তুলনা (আ. লীগ সর্বোচ্চ)
জানুয়ারি – জুন ২০২৫ - বর্তমান সরকার ২৭৯টি ৮৬৭টির এক-তৃতীয়াংশেরও কম
জুন–ডিসেম্বর ২০২২ - আওয়ামী লীগ সরকার ৮৬৭টি
জুন–ডিসেম্বর ২০২৩ - আওয়ামী লীগ সরকার ৫৯১টি
জুলাই–ডিসেম্বর ২০২৪ - আওয়ামী লীগ সরকার ১৫৩ টি
সরকারের দাবি, এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে বর্তমান সরকার কনটেন্ট অপসারণে অনেক কম অনুরোধ পাঠাচ্ছে। এছাড়া, রিপোর্ট অনুযায়ী প্রায় ৬৫ শতাংশ অনুরোধ 'পর্যাপ্ত তথ্য নেই' ক্যাটাগরিতে পড়া প্রমাণ করে এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না।
সরকারের দাবি, এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে বর্তমান সরকার কনটেন্ট অপসারণে অনেক কম অনুরোধ পাঠাচ্ছে। এছাড়া, রিপোর্ট অনুযায়ী প্রায় ৬৫ শতাংশ অনুরোধ 'পর্যাপ্ত তথ্য নেই' ক্যাটাগরিতে পড়া প্রমাণ করে এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না।
প্রেস উইং ব্যাখ্যা করে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত তীব্র মিসইনফরমেশন ক্যাম্পেইনের শিকার হয়। প্রতিবেশী দেশের কিছু গণমাধ্যম থেকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হয়। একই সময়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলে দলটির কিছু অংশ অনলাইনে মিসইনফরমেশন ছড়ায়।
সরকার জানিয়েছে, দেশের সামাজিক-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, সাইবার স্পেসকে নিরাপদ রাখা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং অনলাইন জুয়া (গ্যাম্বলিং) প্রতিরোধ করার সরকারি দায়িত্বের অংশ হিসেবেই কিছু টেক-ডাউন অনুরোধ করা হয়েছে। তবে, গুগলের স্বচ্ছতা প্রতিবেদনে মিসইনফরমেশন বা চরিত্রহনন সংক্রান্ত আলাদা ক্যাটাগরি না থাকায়, এসব অনুরোধকে ভুলবশত 'সরকারবিরোধী সমালোচনা' ক্যাটাগরিতে দেখানো হয়েছে, যা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।
সরকার অভিযোগ করেছে যে, এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের আগে কোনো গণমাধ্যম তাদের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না নেওয়ায় তা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মানদণ্ড পূরণ করেনি। তারা উল্লেখ করেছে যে, এই সময়ে শতাধিক আন্দোলন, মব লিঞ্চিং, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মতো অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী ঘটনা ঘটেছিল, যা সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সরকারের পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।