ঐতিহাসিক পিএস মাহসুদ স্টিমারটি ১৯২৩ সালে কলকাতায় নির্মাণ করা হয়েছিল। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর যাত্রী সংকটের কারণে বিআইডব্লিউটিসি এই রুটে যাত্রীবাহী স্টিমার চলাচল বন্ধ করে দেয়। নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেনের উদ্যোগে ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে এর কাঠামোগত ও ঐতিহাসিক নকশা অক্ষুণ্ণ রেখে অভ্যন্তরীণ সব কিছু নতুনভাবে সাজিয়ে সার্ভিসটি পুনরায় চালু করা হলো।
প্রথম যাত্রার জন্য গত ২১ নভেম্বর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর দিন নির্ধারিত থাকলেও, যাত্রী সংকটের কারণে সেই যাত্রা বাতিল করা হয়েছিল। অবশেষে শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় এটি বরিশালের উদ্দেশে যাত্রা করে। বিআইডব্লিউটিসির উপমহাব্যবস্থাপক খন্দকার তানভীর হোসেন জানান, ঢাকা থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মোট ৪১ জন যাত্রী উঠলেও, ২১ জন চাঁদপুরে নেমে যান। তৃতীয় শ্রেণির (চেয়ার) কোনো যাত্রী ছিলেন না। বাকি ২০ জন যাত্রী নিয়ে এটি বরিশাল পৌঁছালে বরিশালের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. আহসান হাবিব ও জেলা প্রশাসক খায়রুল ইসলাম সুমন ফুল দিয়ে তাদের অভ্যর্থনা জানান।
উচ্চ ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের উদ্বেগ:
বিআইডব্লিউটিসি ঢাকা-বরিশাল রুটে স্টিমারটির জন্য যে ভাড়া নির্ধারণ করেছে, তা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রথম শ্রেণি (এসি কামরা): ৫,২০০ টাকা
দ্বিতীয় শ্রেণি (নন-এসি কামরা): ৩,৩০০ টাকা
তৃতীয় শ্রেণি (চেয়ার): ৬০০ টাকা
একই রুটে চলাচল করা অন্যান্য বেসরকারি লঞ্চে যেখানে প্রথম শ্রেণির কেবিন ভাড়া প্রায় ২,০০০ টাকা, সেখানে স্টিমারের প্রথম শ্রেণির ভাড়া তার আড়াই গুণেরও বেশি। তবে তৃতীয় শ্রেণির চেয়ার ভাড়া লঞ্চের তুলনায় সামান্য কম। উচ্চমূল্যের কারণে বিলাসবহুল এই স্টিমারটি নিয়মিত যাত্রী টানতে পারবে কিনা, তা নিয়ে যাত্রীরা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্টিমারটি প্রতি শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে বরিশাল এবং শনিবার সকালে বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবে। শনিবার সকালে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার জন্য শুক্রবার রাত ৮টা পর্যন্ত আটজন যাত্রী টিকিট সংগ্রহ করেছেন। সপ্তাহের অন্য দিনগুলোতে পর্যটন বাণিজ্যের জন্য এটি ঢাকার আশপাশে ভাড়া দেওয়া হবে।
ডেস্ক রিপোর্ট