দীর্ঘ দেড়শ বছরের ঐতিহ্যবাহী স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের চারটি কাঠামোর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। এই ভবনগুলো হলো—পুরোনো প্রশাসনিক ভবন, যেখানে প্রশাসনিক কাজ ও কর্মচারীদের পরিবার বসবাস করে; কিং এডওয়ার্ড ভবন বা মেডিসিন ভবন, যেখানে প্রতিদিন শত শত রোগী চিকিৎসা নেন; পুরোনো বহির্বিভাগ ভবন (৪১টি পরিবার বসবাস করে); এবং মিনিয়ালস কোয়ার্টার (৩৭টি পরিবার বসবাস করে)।
পিডব্লিউডি ২০০৯ সালেই ভবনগুলোকে পরিত্যক্ত ঘোষণার সুপারিশ করে এবং সামনে 'ঝুঁকিপূর্ণ' লেখা ব্যানার টাঙিয়ে দেয়। পিডব্লিউডির নির্বাহী প্রকৌশলী তারেকুল ইসলাম জানান, ভবনগুলো ব্যবহারের সম্পূর্ণ অযোগ্য হয়ে পড়েছে এবং বিশেষত ছাদের অবস্থা এতই ভয়াবহ যে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
কিং এডওয়ার্ড ভবনটি '৩ নম্বর ভবন' নামে পরিচিত এবং এটি হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের মূল কেন্দ্র। এই ভবনে মেডিসিন বিভাগের আটটি কক্ষ এবং রোগীদের ওয়ার্ড রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ রোগী এখানে চিকিৎসা নেন এবং রোগী, স্বজন, চিকিৎসক, নার্সসহ প্রায় দেড় হাজার মানুষ এই ভবনে অবস্থান করেন। ভবনটির ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে, যা যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। এছাড়া এই ভবনেই ব্লাডব্যাংক, লিভার, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, এন্ডোক্রিনোলজি ও ডায়াবেটিস বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটগুলো অবস্থিত।
এদিকে, পুরোনো প্রশাসনিক ভবন, পুরোনো বহির্বিভাগ ভবন এবং মিনিয়ালস কোয়ার্টার মিলিয়ে প্রায় ১১৩টি কর্মচারী পরিবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। হাসপাতালের উপপরিচালকের দপ্তর থেকে কর্মচারীদের বারবার সরে যাওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হলেও বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা না থাকায় তারা ভবন ছাড়তে পারছেন না, ফলে প্রশাসনও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারেনি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকরা মনে করেন, ৯০০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১,২০০ রোগী ভর্তি থাকেন। ওয়ার্ডে স্থান না পাওয়ায় অনেকে মেঝে বা বারান্দায় থাকেন। এমন পরিস্থিতিতে ভূমিকম্প বা বড় কোনো দুর্যোগ ঘটলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হবে।
উপপরিচালক ডা. মফিজ মোল্লাহ স্বীকার করেন যে মেডিসিন বিভাগের রোগীদের বা কর্মচারীদের জন্য বিকল্প কোনো স্থান নেই। তবে তিনি আশ্বস্ত করেন, ঝুঁকিপূর্ণ ৫ নম্বর ভবন ও স্টাফ সার্ভেন্ট কোয়ার্টার ভেঙে সেখানে ১৬ তলা নতুন ভবন নির্মাণের অনুমোদন পাওয়া গেছে, যা বাস্তবায়িত হলে এই দীর্ঘদিনের সমস্যা অনেকাংশে সমাধান হবে।
ডেস্ক রিপোর্ট