ই-পাসপোর্ট ইস্যু প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ডাটা অ্যান্ড পার্সোনালাইজেশন সেন্টারের সহকারী প্রোগ্রামার হাসানুজ্জামানকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এক বছরের জন্য বেতন গ্রেডে এক ধাপ অবনমিত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-৪ শাখা থেকে বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ দণ্ড অনুমোদন করা হয়, যার ফলে তার মাসিক বেতন ১ হাজার ৭১০ টাকা কমে গেছে।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, এনায়েত উল্লাহ নামে এক ব্যক্তি লিটন মিয়ার এমআরপি নম্বর ব্যবহার করে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য পরিবর্তন করে ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন। সেই আবেদনের ভিত্তিতে ই-পাসপোর্ট ইস্যু হলে লিটন মিয়ার প্রকৃত এমআরপি পাসপোর্টটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়।
তদন্তে উঠে আসে, আবেদনকারীর মুখাবয়ব ও আঙুলের ছাপ সম্পূর্ণ অমিল থাকা সত্ত্বেও এবিআইএস সফটওয়্যার আবেদনটি বাতিল করেনি। বরং সংশ্লিষ্ট সহকারী প্রোগ্রামার হাসানুজ্জামান তার ইউজার আইডি ব্যবহার করে ইআইডি রিলিজ ও অনুমোদন সম্পন্ন করেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক সাকিবুর রহমানের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় মামলা চলছে, যার ব্যক্তিগত শুনানি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
উপসচিব মোহাম্মদ আবু কাউছারের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি নথিপত্র, প্রযুক্তিগত তথ্য ও সাক্ষ্য পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত দেয় যে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী হাসানুজ্জামানের বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত। তদন্তের ভিত্তিতে তার বেতন ৩৫ হাজার ৮৮৮ টাকা থেকে কমিয়ে ৩৪ হাজার ১৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এক বছর পর তিনি আগের বেতনক্রমে ফিরতে পারবেন, তবে কোনো বকেয়া সুবিধা পাবেন না—প্রজ্ঞাপনে এ তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট