জেনেভায় অনুষ্ঠিত আইএলও’র ৩৫৫তম গভর্নিং বডি অধিবেশনে অংশগ্রহণকালে ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বাংলাদেশ সামাজিক ন্যায়বিচারের দায়িত্বশীল অংশীদার হিসেবে জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্তরে কর্মসংস্থান নীতি ও শ্রম আইন কার্যকর করছে। সম্প্রতি সংশোধিত শ্রম আইনে ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় শ্রমিক সংখ্যা ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে মাত্র ২০ জনে নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করতে প্রয়োজনীয় তথ্যের পরিমাণ কমানো, ব্যক্তিগত তথ্য শিথিলকরণ এবং কালো তালিকাভুক্তি নিষিদ্ধকরণের মতো বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
ড. সাখাওয়াত হোসেন জানান, সংশোধিত শ্রম আইনে কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, সহিংসতা, হয়রানি এবং শিশু শ্রম বন্ধে কঠোর শাস্তি ও প্রতিরোধমূলক বিধান সংযোজিত হয়েছে। ন্যূনতম মজুরি পুনঃনির্ধারণের সময়সীমা প্রতি পাঁচ বছরের পরিবর্তে তিন বছরে করার নিয়মও রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার কনভেনশন ১৫৫, ১৮৭ ও ১৯০ সমর্থন করেছে, ফলে দেশের শ্রম আইন সকল মৌলিক কনভেনশন অনুসারে আপডেট হয়েছে। এর পাশাপাশি শ্রমিক নেতা ও ট্রেড ইউনিয়ন কর্মীদের বিরুদ্ধে পূর্বে দায়ের করা সকল মামলা বিগত এক বছরে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আগামী বছরের মার্চে ঢাকায় এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর অংশগ্রহণে সামাজিক ন্যায়বিচার ফোরাম আয়োজনেরও পরিকল্পনা রয়েছে।
অধিবেশনের এক প্রান্তে বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা পাকিস্তানের মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী চৌধুরী সালিক হোসেনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে দক্ষতা উন্নয়ন সংক্রান্ত সহযোগিতা এবং দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয় আলোচনা হয়। এ সময় শ্রম সচিব ড. মো. সানোয়ার জাহান ভূইয়া এবং সুইজারল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি নাহিদা সোবহানও উপস্থিত ছিলেন।
ডেস্ক রিপোর্ট