দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি না হওয়ায় বৈষম্যের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে ‘নো প্রমোশন–নো ওয়ার্ক’ কর্মসূচি পালন করছেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষকেরা। তাঁদের দাবি, একই সময়ে অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা ধারাবাহিকভাবে পদোন্নতি পেলেও শিক্ষা ক্যাডারের বহু ব্যাচ এখনো আটকে আছে, যা শিক্ষক সমাজের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে। প্রভাষকেরা দ্রুত সময়ের মধ্যে ন্যায্য ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের হস্তক্ষেপ চান।
মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) রংপুর কারমাইকেল কলেজে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এসব অভিযোগ তোলেন ৩২তম বিসিএস ব্যাচের সিনিয়র প্রভাষক বুলবুল আহমেদ। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্যাডার সময়মতো পদোন্নতি পেলেও শিক্ষা ক্যাডারের একটি বড় অংশ দীর্ঘ এক যুগ ধরে অপেক্ষায় রয়েছে, যা ইচ্ছাকৃত বঞ্চনার মতো মনে হচ্ছে। তাঁর মন্তব্য, শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের কাছে ফেরাই তাঁদের লক্ষ্য, তবে বৈষম্য নিরসন ছাড়া তা সম্ভব নয়।
সকালে কারমাইকেল কলেজের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে প্রভাষকেরা অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি পালন করলে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়। একই দিনে সারাদেশের সরকারি কলেজেও এই কর্মসূচি চলছে। আন্দোলনকারীরা জানান, আজ দাবি পূরণ না হলে বুধবার থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তর (মাউশি) কার্যালয়ের সামনে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান ধর্মঘটে যাবেন।৩৪তম ব্যাচের প্রভাষক রবিউল সাদিক নিরব বলেন, একই নিয়োগ ও একই গেজেট থেকে কর্মজীবন শুরু হলেও প্রশাসন,
পুলিশসহ অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা দ্রুত পদোন্নতি পেয়েছেন। তিনি মনে করেন, শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষকদের ‘লেকচারার’ পদে রাখাকে অনেকেই অবমূল্যায়ন হিসেবে দেখেন, যা তাদের জন্য সামাজিক ও পেশাগতভাবে হতাশার।৩৫তম ব্যাচের প্রভাষক শিরিন আক্তার বলেন, শিক্ষা ক্যাডারে নয় বছর বা তার বেশি সময় ধরে চাকরি করলেও অন্যান্য ক্যাডারের ৩৭তম ব্যাচ পর্যন্ত পদোন্নতি হয়ে গেছে। এটি স্পষ্ট বৈষম্য। তাঁর মতে, বৈষম্য দূরীকরণের প্রত্যাশা নিয়েই জুলাই গণ–অভ্যুত্থান হয়েছিল, কিন্তু শিক্ষা ক্যাডারে সেই পরিবর্তন আসেনি।
৩৬তম ব্যাচের জনি মাহমুদ জানান, ৩২ থেকে ৩৭তম ব্যাচের প্রায় সাড়ে তিন হাজার প্রভাষক বিভাগীয় পরীক্ষা, ট্রেনিং ও সব শর্ত পূরণ করেও বছর ধরে পদোন্নতি পাননি, যা মানসিক চাপ তৈরি করছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা ক্লাসে ফিরবেন না বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে ৩৮তম ব্যাচের মুকতোজা বেগম বলেন, বিভিন্ন বিধিমালার জটিলতার কারণে পদোন্নতি আটকে আছে, অথচ এগুলো সমাধান করতে প্রশাসনের বেশি সময় লাগার কথা নয়। দ্রুত সমাধান না এলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
বিসিএস সাধারণ শিক্ষা প্রভাষক ক্যাডার পরিষদের আহ্বায়ক আব্দুল লতিফ বলেন, জুলাই পরবর্তী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বৈষম্য দূর না হওয়ায় শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ। তিনি জানান, বুধবার থেকে সারাদেশের প্রভাষকরা ঢাকায় সমবেত হয়ে মাউশির সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সেখান থেকে সরে যাবেন না।
পদোন্নতিতে দীর্ঘ বৈষম্যের অভিযোগ, ‘নো প্রমোশন–নো ওয়ার্ক’ কর্মসূচিতে শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষকেরা
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ১৮-১১-২০২৫ ০৫:২৪:৫৪ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৮-১১-২০২৫ ০৫:২৫:৩৮ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ২ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
সর্বশেষ সংবাদ
এ জাতীয় আরো খবর
ডেস্ক রিপোর্ট