অস্থায়ী বা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক রূপান্তর নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়ন করা। নির্বাচনের কয়েক মাস আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণের আস্থা পুনঃস্থাপন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার এই বিষয়গুলোর প্রতি পর্যাপ্ত মনোযোগ দেখাচ্ছে না; বরং তাদের আগ্রহ কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করার দিকে বেশি মনোনিবেশিত।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অস্থায়ী সরকারের এই ধরনের চুক্তি করার এখতিয়ার নেই। সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করতে হলে নির্বাচিত সরকার এবং সংসদের আলোচনার মধ্য দিয়ে তা স্বচ্ছভাবে কার্যকর করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের তাড়াহুড়া, গোপনীয়তা ও অস্বচ্ছতা সন্দেহের উদ্রেক করছে। বিশেষ করে বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে করা চুক্তি যদি দেশের উন্নয়নের জন্যই হয়, তবু এত তাড়াহুড়া কেন, প্রশ্ন তুলছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
কিছু বিশ্লেষক বলছেন, সরকারের এই আগ্রহ বিদেশি কোম্পানির লবিস্টদের স্বার্থরক্ষার কারণে হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি যাতে পরবর্তী সরকার পরিবর্তন করতেও না পারে, এমন পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে এসব চুক্তির আর্থিক ও সামাজিক বোঝা দেশের জনগণকে বহন করতে হবে বহু বছর।
গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও নিয়মনীতি মেনে পরিচালনার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল; কিন্তু এই ধরনের চুক্তি তা বিশ্বাসঘাতকতারই প্রতিফলন। রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে; যারা সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চালাচ্ছে, তারা জাতীয় স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে নীরব থাকায় তাদেরও দায়িত্ব রয়েছে।
চুক্তি নিয়ে যুক্তি দেওয়া হয় যে, বিদেশি কোম্পানি দক্ষ এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। তবে সমালোচকেরা বলছেন, এমন ধারণা হীনম্মন্যতা তৈরি করে এবং বিদেশি কোম্পানির পক্ষে সুবিধা দিতে চেষ্টা চালানো হয়। চুক্তির আগে মাশুল বাড়ানো, বা অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও দুর্নীতির উদাহরণ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করান, দক্ষ ও স্বীকৃত বিদেশি কোম্পানিগুলো জাতীয় সক্ষমতার ওপর দাঁড়িয়ে গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশকেও নিজের প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শক্তভাবে দাঁড়াতে হবে। কিন্তু বর্তমান সরকারের নীতিমালা দেশের স্বনির্ভরতা ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মত প্রকাশ করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের অতি আগ্রহী চুক্তি ঘিরে প্রশ্ন, নির্বাচনের প্রস্তুতিতে মনোযোগ জরুরি
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ১৮-১১-২০২৫ ১১:৪৭:২৮ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৮-১১-২০২৫ ১১:৪৭:২৮ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ২ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
সর্বশেষ সংবাদ
এ জাতীয় আরো খবর
ডেস্ক রিপোর্ট