তাইওয়ানের চারপাশে মিলিশিয়া নৌযান, যুদ্ধক্ষেত্রের প্রস্তুতি বাড়াচ্ছে চীন?
উপকূলরক্ষী, গবেষণা ও মাছ ধরার নৌযানের সমন্বিত তৎপরতাকে সম্ভাব্য অবরোধের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছে তাইপে।
- আপলোড সময় : ২৩-১০-২০২৬ ১০:৩৮:৫৪ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৩-১০-২০২৬ ১০:৩৮:৫৪ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ২৭ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
তাইওয়ানের কোস্টগার্ড অভিযোগ করেছে, চীন তাদের মিলিশিয়া এবং কোস্টগার্ডের জাহাজ ব্যবহার করে তাইওয়ানের চারপাশ ও পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ‘যুদ্ধক্ষেত্রের প্রস্তুতি’ সম্প্রসারিত করছে। গত আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে তাইওয়ানের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে প্রথম কোনো চীনা মিলিশিয়া নৌযান শনাক্ত হওয়ার পর এই বিবৃতি দিল তারা। তাইওয়ানের দাবি, চীনের এসব কার্যক্রম জাপান ও ফিলিপাইনের ওপরও চাপ তৈরি করছে।
গত আগস্টে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে চীনা মিলিশিয়া নৌযানের উপস্থিতির কথা জানানো হয়েছিল। তাইওয়ানের কোস্টগার্ড ওই প্রতিবেদন নিশ্চিত করে জানিয়েছে, গত ১৬ আগস্ট ‘মিনফুদংইয়ু ০৭৯০২’ নামের সন্দেহভাজন ওই মিলিশিয়া মাছ ধরার নৌকাটি তাইওয়ানের সংরক্ষিত জলসীমার মাত্র ২.৭ নটিক্যাল মাইল বাইরে অবস্থান করছিল। নৌকাটির সঙ্গে একটি চীনা কোস্টগার্ডের জাহাজ এবং একটি গবেষণায় ব্যবহৃত নৌযানও ছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে তাইওয়ান তাদের একটি টহল নৌযান পাঠিয়ে সেগুলোকে সরিয়ে দেয়।
তাইওয়ানের কোস্টগার্ড বলছে, গত জুন মাস থেকে চীন এমন অর্থনৈতিক জলসীমায় তাদের কার্যক্রম বাড়িয়েছে, যেখানে তাইওয়ান, জাপান ও ফিলিপাইনের স্বার্থ জড়িত। বিশেষ করে জাপান ও ফিলিপাইন যখন নিজেদের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সামুদ্রিক সীমানা নির্ধারণ নিয়ে আলোচনার ঘোষণা দেয়, এরপর থেকেই চীনের এই তৎপরতা বেড়েছে। চীনের এসব কার্যক্রমকে ‘গ্রে-জোন’ বা ধূসর অঞ্চলের অভিযান বলা হচ্ছে। তারা সরাসরি সংঘাতে না জড়িয়ে বৈজ্ঞানিক ও বেসামরিক কাজের আড়ালে সমুদ্রে নিজেদের প্রভাব বাড়াচ্ছে।
তাইওয়ানের কর্মকর্তারা মনে করেন, চীন সামরিক, আধা সামরিক ও বেসামরিক সম্পদের সমন্বয়ে একটি সম্ভাব্য নৌ অবরোধের মহড়া চালাচ্ছে। তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলটি সামুদ্রিক যোগাযোগ ও সরবরাহের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। সেখানে চীনের অব্যাহত উপস্থিতি তাইওয়ানের নিরাপত্তাজনিত চাপ আরও বাড়াতে পারে বলে কোস্টগার্ড জানিয়েছে। তারা সন্দেহভাজন নৌযানটিকে অগ্রাধিকারভিত্তিক নজরদারির তালিকায় রেখেছে।
চীন বরাবরই গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের বিষয়টিও উড়িয়ে দেয়নি। অন্যদিকে, তাইওয়ান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলছে, কেবল তাদের জনগণই নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।