ফ্রান্সের বিক্ষোভ নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘নির্বোধ’ বললেন মাখোঁ
সহিংসতা নিয়ে বিদেশি নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে ফরাসি প্রেসিডেন্টের অভিযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ভুয়া ছবি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
- আপলোড সময় : ২২-১০-২০২৬ ১০:২৮:০০ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২২-১০-২০২৬ ১০:৩৪:০২ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৩৮ বার পঠিত
ছবি—সংগৃহীত
ফ্রান্সে সাম্প্রতিক সহিংস বিক্ষোভ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ কয়েকজন বিদেশি নেতার মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। এসব মন্তব্যকে ‘নির্বোধের’ মতো বলে অভিহিত করে তিনি অভিযোগ করেছেন, ফ্রান্সের পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ভুয়া ছবি ছড়ানো হচ্ছে। গতকাল বুধবার কাতারের রাজধানী দোহায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মাখোঁ সরাসরি কারও নাম উল্লেখ না করে বলেন, গত শনিবারের সহিংসতার পর ঘটনাগুলো নিয়ে তথ্যের অপব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে বিদেশি নেতাসহ অনেকে অগ্রহণযোগ্য ও নির্বোধের মতো মন্তব্য করেছেন। এসব মন্তব্যের মধ্যে ট্রাম্পের বক্তব্যও রয়েছে কি না, জানতে চাইলে মাখোঁ বলেন, অন্যদের মধ্যে তিনিও আছেন।
দোহায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মাখোঁ আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও আটলান্টিকের ওপারের কিছু নেতা নির্বাচনী প্রচারের স্বার্থে এমন বক্তব্য দিচ্ছেন, যা নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর ছড়ানো বয়ানের সঙ্গে মিলে যায়। তাঁর অভিযোগ, এসব নেতা নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ফ্রান্সের পরিস্থিতিকে ব্যবহার করছেন।
ফরাসি প্রেসিডেন্টের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি এমন কিছু ছবি ছড়ানো হচ্ছে, যেগুলোতে ফ্রান্সে ঘটেনি এমন ঘটনা দেখানো হয়েছে। অভিবাসী ও ইসলামপন্থীদের বিশাল ঢল দেশটিতে প্রবেশ করেছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে, সেটিও সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ফ্রান্সের বিক্ষোভকে ‘উগ্র ইসলামপন্থীদের’ আগ্রাসন হিসেবে বর্ণনা করেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে ট্রাম্প ফ্রান্সের সহিংসতার জন্য অভিবাসী, ‘জিহাদি’ ও কমিউনিস্টদের দায়ী করেন।
ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রায় ছয় মাস আগে নতুন করে রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে মাখোঁর সরকার। গত শনিবার জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভের বড় অংশ প্রথমে শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরে তা সহিংসতা ও লুটপাটে রূপ নেয়। প্যারিস, মার্সেই, লিয়ঁ ও লিমোজ শহরে পরিস্থিতি বিশেষভাবে গুরুতর হয়ে ওঠে। লিমোজের টাউন হলে আগুন লাগানো হলে ভবনটির একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ার কথা সরকারও স্বীকার করেছে।
নতুন করে বিক্ষোভের আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার প্যারিসের কয়েকটি এলাকায় সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে পুলিশ। সকাল আটটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকার কথা। এর আওতায় রয়েছে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন এলিসি প্রাসাদ, পার্লামেন্ট ভবন এবং ল্যুভর জাদুঘরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থান। সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকটি দেশ ফ্রান্সে ভ্রমণের বিষয়ে সতর্কতাও জারি করেছে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।