সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির ফলে সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় দেশে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উচ্চ সুদের কারণে ঋণ নেওয়া ব্যয়বহুল হয়ে পড়ায় নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ কমছে, যা সরকারের বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন, সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি ছাড়া শুধু কড়াকড়ি মুদ্রানীতি অনুসরণ করলে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জানুয়ারি-জুন সময়ে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল ৮ শতাংশ। তবে সর্বশেষ মে মাসের হিসাবে এই প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশে। এর আগে এপ্রিল মাসে এটি নেমে আসে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশে, যা ছিল গত প্রায় দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিছুটা নমনীয় হয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ঋণপ্রবাহ বাড়াতে নীতিগত সহায়তার কথাও জানিয়েছে।
তবে উদ্যোক্তারা মনে করছেন, নীতিসুদহার ১০ শতাংশে স্থির থাকায় বাস্তবে ঋণের সুদ ১৫ থেকে ১৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ব্যাংকগুলো বিভিন্ন চার্জ ও ফি আরোপ করায় ঋণের প্রকৃত ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে, ফলে উদ্যোক্তাদের ওপর চাপ বাড়ছে।
অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্যোক্তারা ঋণপ্রাপ্তি সহজ করা এবং বাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়ানোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সক্রিয় ভূমিকা চান। পাশাপাশি কোন ব্যাংক কতটা সক্ষম, তা বিবেচনা করে তারল্য সহায়তা দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন অর্থবছরের ঘাটতি বাজেট বাস্তবায়নে সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করায় বেসরকারি খাতের জন্য ঋণের সুযোগ আরও সংকুচিত হতে পারে। এতে উৎপাদন কমে গেলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বেসরকারি খাতে বিদেশি ঋণের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।
এছাড়া বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকার যদি ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে উচ্চমাত্রায় ঋণ নেয়, তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত বিকল্প উৎস—বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজার—থেকে অর্থ সংগ্রহ করে বেসরকারি খাতে ঋণ সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া।
বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী ছয় মাসে অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রবৃদ্ধি সাড়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করতে চাইলেও সর্বশেষ মে মাসে তা ছিল ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম।