যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হত্যা প্রচেষ্টা চালালে তার জবাবে ব্যাপক সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য মার্কিন বাহিনীকে আগেই প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এমন পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক ও কঠোর প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করতে আগাম পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১০ জুলাই) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে লক্ষ্য করে ইতোমধ্যে এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনে দ্রুত আরও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সক্ষমতাও রাখা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ইরান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করে হুমকি দিয়ে আসছে এবং সেই প্রেক্ষাপটেই এই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা আগে থেকেই দেওয়া হয়েছে এবং অন্তত এক বছরের জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বিভিন্ন স্থানে ধ্বংসাত্মক হামলা চালাতে প্রস্তুত রয়েছে। তবে প্রয়োজন হলে এই প্রস্তুতির সময়সীমা আরও বাড়ানো হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে একাধিকবার ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি ইরানের সম্ভাব্য টার্গেটে রয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, তার বিরুদ্ধে কোনো হামলার চেষ্টা হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া হবে কঠোর ও নজিরবিহীন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও তিনি উল্লেখ করেন, তার ক্ষতি হলে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে সে বিষয়ে তিনি আগে থেকেই নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন।
এদিকে চলতি সপ্তাহে ইসরাইলের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য একটি হত্যাচক্রান্তের গোয়েন্দা তথ্য যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছে—এমন খবরে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, নতুন কোনো পরিকল্পনার তথ্য তিনি দেখছেন না। তবে তার দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ইরানের ‘হিটলিস্টে’ রয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন এবং তা মোকাবিলায় প্রস্তুতিও রয়েছে।