টানা বৃষ্টিপাতের কারণে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত জেলার প্রধান নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে ১১ উপজেলায় ১ হাজার ৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে সুনামগঞ্জ পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি ৭ দশমিক ৩০ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হয়েছে, যা মৌসুমি বিপৎসীমার চেয়ে ৫০ সেন্টিমিটার নিচে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ১০ সেন্টিমিটার বেড়েছে।
ছাতক পয়েন্টে নদীর পানির উচ্চতা ৮ দশমিক ৩৮ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে, যা বিপৎসীমার ৩২ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। এ এলাকায় গত এক দিনে পানির উচ্চতা ২১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে ছাতকে ১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
অন্যদিকে শক্তিয়ারখলা পয়েন্টে নদীর পানি ৭ দশমিক ২৮ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে, যা বিপৎসীমার তুলনায় ৭৭ সেন্টিমিটার নিচে। তবে এ পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় পানির উচ্চতা ৪২ সেন্টিমিটার কমেছে। এদিকে সীমান্তবর্তী লাউড়েরগড় এলাকায় একই সময়ে সর্বোচ্চ ১০৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এমদাদুল হক জানান, উজানে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নদ-নদীর পানির গতিপ্রকৃতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত জেলার কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।
জেলা প্রশাসক মিনহাজুর রহমান জানান, নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা বিবেচনায় রেখে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলার ১১ উপজেলায় ১ হাজার ৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী, মেডিকেল টিম, স্বেচ্ছাসেবক, নৌযান এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে প্রয়োজন হলে দ্রুত সহায়তা দেওয়া যায়।