পূর্ব বগুড়ার সারিয়াকান্দি থেকে জামালপুরের মাদারগঞ্জ পর্যন্ত যমুনা নৌপথে ফেরি সার্ভিস চালুর ফাইলটি দীর্ঘ সময় ‘লাল ফিতার দৌরাত্ম্যে’ বন্ধ থাকার পর অবশেষে আলোর মুখ দেখছে। যমুনার দুই পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণে বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলায় পৃথক দুটি নদীবন্দর স্থাপনের গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। এর ফলে এখন শুধু যমুনার বুকে জাহাজের হুইসেল শোনার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন উত্তর জনপদের মানুষ।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার মন্ত্রণালয়ের টিএ শাখা থেকে প্রেসিডেন্টের আদেশক্রমে এই গেজেট প্রকাশ করা হয়। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ছন্দা পাল স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআইডব্লিউটিএ) ধুনট ও সারিয়াকান্দি নদীবন্দরের ‘সংরক্ষক’ নিযুক্ত করে এর সীমানা নির্ধারণের তথ্য জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৯৭৮ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এখানে প্রথম নদীবন্দর স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে নানা কারণে থমকে যায়। দীর্ঘ সময় পর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এই ঐতিহাসিক দাবিটি পূরণ হতে যাচ্ছে। গেজেট প্রকাশের এ খবরে বগুড়াবাসীর মাঝে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, ভৌগোলিক দিক থেকে বগুড়া অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। করতোয়া, নাগর, বাঙালি ও যমুনার মতো বড় ৪টি নদী এই জেলার বুক চিরে বয়ে গেছে। কিন্তু গত ১৮ বছর উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে বগুড়াবাসী। ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, অবশেষে তা আলোর মুখ দেখছে। এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তিনি ভবিষ্যতে সারিয়াকান্দিতে একটি সার কারখানা স্থাপনের আশাবাদও ব্যক্ত করেন।
বর্তমানে বগুড়ায় নৌবন্দর না থাকায় উত্তরাঞ্চলের মানুষকে জামালপুর বা ময়মনসিংহ যেতে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হয়, যাতে সময় লাগে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা। অন্যদিকে কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও বৃহত্তর দিনাজপুরের মানুষকে যমুনা সেতু হয়ে ঢাকা পৌঁছাতে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে।
সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ ফেরি সার্ভিস পুরোদমে চালু হলে এই বিকল্প রুটে অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে রাজধানী ঢাকা পৌঁছানো সম্ভব হবে। সাধারণ সময়ে যমুনার বুকে নৌকায় যাতায়াত করতে গিয়ে যাত্রীদের অসংখ্য চরের মুখে পড়তে হতো এবং দীর্ঘ পথ হেঁটে পাড়ি দিতে হতো। এছাড়া বর্ষায় উত্তাল ঢেউয়ের ঝুঁকি এবং চরাঞ্চলে জলদস্যুদের হামলার আতঙ্ক তো ছিলই। ফেরি সার্ভিস চালু হলে মাত্র ৮ থেকে ১০ কিলোমিটারের নৌপথ পাড়ি দিয়ে অপেক্ষাকৃত কম সময়ে বৃহত্তর ময়মনসিংহের জামালপুর, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর এবং ঢাকায় পৌঁছানো যাবে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (টিএ) ছন্দা পাল ইনকিলাবকে জানান, বন্দর আইন, ১৯০৮-এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার বিআইডব্লিউটিএকে এই দুই বন্দরের সংরক্ষক নিয়োগ দিয়েছে।
প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী, সারিয়াকান্দি নদী বন্দরের উত্তর সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে সারিয়াকান্দি সদর ইউনিয়নের কালিতলা ঘাটের উত্তরে হাটশেরপুর ইউনিয়নের খুদ্দ বলাইল মৌজার দিঘাপাড়া ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে যমুনা নদী অতিক্রম করে পূর্ব তীরে কাজলা ইউনিয়নের বেড়া পাঁচবাড়িয়া মৌজার জামফল ঘাট পর্যন্ত। আর দক্ষিণ সীমানা কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের চরশ্মশানপাড়া মৌজার ময়রাপাড়া ঘাটের (দেবডাঙ্গা) দক্ষিণ দিক থেকে যমুনা নদী অতিক্রম করে পূর্ব তীরে কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের নারাপালা মৌজার মূলবাড়ী পর্যন্ত। নদীর পূর্ব ও পশ্চিম তীরে সাধারণ ভরাকটালের সময় সর্বোচ্চ পানির সমতল থেকে স্থলভাগের দিকে ৫০ গজ পর্যন্ত এলাকা এই বন্দরের আওতাভুক্ত থাকবে। এর মধ্যে দিঘাপাড়া ঘাট, কালিতলা ঘাট, ময়রাপাড়া ঘাট (দেবডাঙ্গা), জামফল ঘাট, শোনপচা ঘাটসহ বিদ্যমান সব খাল ও ঘাট অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মো. সিরাজ জানান, সব জটিলতা কাটিয়ে সারিয়াকান্দির চন্দবাইশা ও ধুনটের শহরাবাড়ি ঘাট এলাকায় নদীবন্দর স্থাপনের গেজেট প্রকাশ হওয়ায় এই অঞ্চল দেশের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হবে। এই দুটি নৌবন্দর পূর্ণাঙ্গ রূপ নিলে দেশের অর্থনীতিতে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। উত্তর জনপদের কৃষকেরা বিশেষ করে যমুনার চরাঞ্চলের উৎপাদিত মরিচ, পাট ও সবজি অত্যন্ত অল্প খরচে এবং দ্রুততম সময়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠাতে পারবেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার মন্ত্রণালয়ের টিএ শাখা থেকে প্রেসিডেন্টের আদেশক্রমে এই গেজেট প্রকাশ করা হয়। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ছন্দা পাল স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআইডব্লিউটিএ) ধুনট ও সারিয়াকান্দি নদীবন্দরের ‘সংরক্ষক’ নিযুক্ত করে এর সীমানা নির্ধারণের তথ্য জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৯৭৮ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এখানে প্রথম নদীবন্দর স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে নানা কারণে থমকে যায়। দীর্ঘ সময় পর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এই ঐতিহাসিক দাবিটি পূরণ হতে যাচ্ছে। গেজেট প্রকাশের এ খবরে বগুড়াবাসীর মাঝে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, ভৌগোলিক দিক থেকে বগুড়া অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। করতোয়া, নাগর, বাঙালি ও যমুনার মতো বড় ৪টি নদী এই জেলার বুক চিরে বয়ে গেছে। কিন্তু গত ১৮ বছর উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে বগুড়াবাসী। ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, অবশেষে তা আলোর মুখ দেখছে। এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তিনি ভবিষ্যতে সারিয়াকান্দিতে একটি সার কারখানা স্থাপনের আশাবাদও ব্যক্ত করেন।
বর্তমানে বগুড়ায় নৌবন্দর না থাকায় উত্তরাঞ্চলের মানুষকে জামালপুর বা ময়মনসিংহ যেতে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হয়, যাতে সময় লাগে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা। অন্যদিকে কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও বৃহত্তর দিনাজপুরের মানুষকে যমুনা সেতু হয়ে ঢাকা পৌঁছাতে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে।
সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ ফেরি সার্ভিস পুরোদমে চালু হলে এই বিকল্প রুটে অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে রাজধানী ঢাকা পৌঁছানো সম্ভব হবে। সাধারণ সময়ে যমুনার বুকে নৌকায় যাতায়াত করতে গিয়ে যাত্রীদের অসংখ্য চরের মুখে পড়তে হতো এবং দীর্ঘ পথ হেঁটে পাড়ি দিতে হতো। এছাড়া বর্ষায় উত্তাল ঢেউয়ের ঝুঁকি এবং চরাঞ্চলে জলদস্যুদের হামলার আতঙ্ক তো ছিলই। ফেরি সার্ভিস চালু হলে মাত্র ৮ থেকে ১০ কিলোমিটারের নৌপথ পাড়ি দিয়ে অপেক্ষাকৃত কম সময়ে বৃহত্তর ময়মনসিংহের জামালপুর, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর এবং ঢাকায় পৌঁছানো যাবে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (টিএ) ছন্দা পাল ইনকিলাবকে জানান, বন্দর আইন, ১৯০৮-এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার বিআইডব্লিউটিএকে এই দুই বন্দরের সংরক্ষক নিয়োগ দিয়েছে।
প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী, সারিয়াকান্দি নদী বন্দরের উত্তর সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে সারিয়াকান্দি সদর ইউনিয়নের কালিতলা ঘাটের উত্তরে হাটশেরপুর ইউনিয়নের খুদ্দ বলাইল মৌজার দিঘাপাড়া ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে যমুনা নদী অতিক্রম করে পূর্ব তীরে কাজলা ইউনিয়নের বেড়া পাঁচবাড়িয়া মৌজার জামফল ঘাট পর্যন্ত। আর দক্ষিণ সীমানা কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের চরশ্মশানপাড়া মৌজার ময়রাপাড়া ঘাটের (দেবডাঙ্গা) দক্ষিণ দিক থেকে যমুনা নদী অতিক্রম করে পূর্ব তীরে কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের নারাপালা মৌজার মূলবাড়ী পর্যন্ত। নদীর পূর্ব ও পশ্চিম তীরে সাধারণ ভরাকটালের সময় সর্বোচ্চ পানির সমতল থেকে স্থলভাগের দিকে ৫০ গজ পর্যন্ত এলাকা এই বন্দরের আওতাভুক্ত থাকবে। এর মধ্যে দিঘাপাড়া ঘাট, কালিতলা ঘাট, ময়রাপাড়া ঘাট (দেবডাঙ্গা), জামফল ঘাট, শোনপচা ঘাটসহ বিদ্যমান সব খাল ও ঘাট অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মো. সিরাজ জানান, সব জটিলতা কাটিয়ে সারিয়াকান্দির চন্দবাইশা ও ধুনটের শহরাবাড়ি ঘাট এলাকায় নদীবন্দর স্থাপনের গেজেট প্রকাশ হওয়ায় এই অঞ্চল দেশের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হবে। এই দুটি নৌবন্দর পূর্ণাঙ্গ রূপ নিলে দেশের অর্থনীতিতে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। উত্তর জনপদের কৃষকেরা বিশেষ করে যমুনার চরাঞ্চলের উৎপাদিত মরিচ, পাট ও সবজি অত্যন্ত অল্প খরচে এবং দ্রুততম সময়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠাতে পারবেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।