বর্ষাকাল ও বন্যাপ্রবণ সময়ে সাপের উপদ্রব তুলনামূলকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় মাঠ, ঝোপঝাড়, জলাবদ্ধ স্থান এবং বসতবাড়ির আশপাশে সাপের উপস্থিতির ঝুঁকি থাকে। তাই সাপে কাটা প্রতিরোধে সচেতনতা ও সতর্কতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রাতে বাইরে চলাচলের সময় টর্চলাইট ব্যবহার করা উচিত। অন্ধকারে হাঁটার সময় সাপ চোখে না পড়ার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এছাড়া ঘরের আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং ঝোপঝাড় নিয়মিত পরিষ্কার করাও গুরুত্বপূর্ণ।
কৃষিকাজ বা মাঠে কাজ করার সময় লম্বা বুট বা পা ঢেকে রাখে এমন জুতা ব্যবহার করলে সাপের কামড়ের ঝুঁকি কিছুটা কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে খড়ের গাদা, কাঠের স্তূপ বা ঝোপঝাড়ে হাত দেওয়ার আগে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
মেঝেতে ঘুমানোর পরিবর্তে সম্ভব হলে খাটে বা উঁচু স্থানে ঘুমানো ভালো। রাতে মশারির ব্যবহারও কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুরক্ষা দিতে পারে।
যদি কোনো ব্যক্তিকে সাপে কামড় দেয়, তাহলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে নেওয়া উচিত। চিকিৎসকদের মতে, আক্রান্ত অঙ্গ যতটা সম্ভব স্থির রাখা ভালো।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থা সাপে কাটার ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে। সময়মতো চিকিৎসা পেলে গুরুতর জটিলতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
সচেতনতা, সতর্কতা এবং দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ—এই তিনটি বিষয় সাপে কাটার ঝুঁকি ও এর ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।