সরকারি বেতন বাড়লে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে, বেসরকারি কর্মীরা বৈষম্যে পড়বেন — অর্থনীতিবিদদের সতর্কতা

আপলোড সময় : ০৯-০৭-২০২৬ ১১:৫৪:৪৫ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৯-০৭-২০২৬ ১১:৫৪:৪৫ পূর্বাহ্ন
 

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার উদ্যোগকে যৌক্তিক মনে করলেও এর আর্থ-সামাজিক ঝুঁকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, সাড়ে ১৪ লাখের বেশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বৃদ্ধি কেবল মূল্যস্ফীতিই বাড়াবে না, বৈষম্য, দারিদ্র্য ও তারল্য সংকটসহ একাধিক অর্থনৈতিক ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।
 

বাংলাদেশে সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষিত হয়েছিল ২০১৫ সালে। দীর্ঘ এক দশক পর নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পে স্কেল পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে ঘোষণা দিয়েছেন, পহেলা জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন শুরু হবে।
 

সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেছেন, নতুন পে স্কেল মূল্যস্ফীতিকে আরও উস্কে দেবে। বাড়তি বেতনের অর্থ জোগাতে সরকারকে ঋণ নিতে বা টাকা ছাপাতে হবে, যা অর্থনীতিতে যোগ হলেই মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যাবে। বিআইআইএসএসের গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর জানান, বেসরকারি ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে তারল্য সংকট, আর বিদেশি ঋণ নিলে অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি হবে। তিনি আরও সতর্ক করেন, অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে চাহিদা বাড়লেই ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পণ্যের দাম কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেন।
 

বৈষম্যের প্রশ্নও সামনে আসছে। দেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৯৫ শতাংশ বেসরকারি খাতে কাজ করেন, যাদের বেতন বাড়ছে না। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে দারিদ্র্যের হার ১৮.৭ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে বেড়ে ২১.৪ শতাংশে পৌঁছেছে। সরকারি-বেসরকারি খাতের মধ্যে আয়ের এই ব্যবধান আরও বড় হলে দারিদ্র্য ও বৈষম্য দুটোই বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
 

সরকার অবশ্য এই চ্যালেঞ্জ স্বীকার করেও বলছে, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ধাপে ধাপে বেতন বাড়ানো হবে, যাতে অর্থনীতিতে একসঙ্গে বড় চাপ না পড়ে।

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]