যশোরের অভয়নগর উপজেলায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিদিনই জ্বর ও ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে রোগীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১৫৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন এবং বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১২ জন ভর্তি রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে থাকায় এডিস মশার প্রজনন বেড়েছে। পাশাপাশি নওয়াপাড়া পৌর এলাকায় নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রম না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। নওয়াপাড়া পৌর এলাকা, প্রেমবাগ, সিদ্ধিপাশা, শ্রীধরপুর, চলিশিয়া ও সুন্দলীসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে ডেঙ্গু নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে।
অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলিমুর রাজীব বলেন, জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা কিংবা রক্তক্ষরণের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের ব্যথানাশক ওষুধ সেবন না করারও পরামর্শ দেন।
স্থানীয়দের দাবি, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ফগিং, ড্রেন ও জলাবদ্ধ স্থান পরিষ্কার এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা, কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে না দেওয়া এবং জ্বর দেখা দিলে দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।