হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে চীনসহ বন্ধু দেশগুলোকে ‘বিশেষ সুবিধা’ দেবে ইরান। বেইজিংয়ে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত এই বড় ঘোষণা দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চার মাসের যুদ্ধের পর গুরুত্বপূর্ণ এই পথটিকে এখন নিজেদের ‘জাতীয় নিরাপত্তা’ হিসেবে দেখছে তেহরান।
শনিবার বেইজিংয়ের ‘ওয়ার্ল্ড পিস ফোরাম’-এ ইরানি রাষ্ট্রদূত আবদোলরেজা রহমানি ফাজলি বলেন, চীনের জন্য আমাদের অবশ্যই বিশেষ বিবেচনা থাকবে, কারণ চীন আমাদের বন্ধু দেশ। যারা আমাদের বন্ধু, তাদের এমন বিশেষ সুবিধা দেওয়া উচিত।
তিনি জানান, ওমানের সাথে মিলে হরমুজ প্রণালির জন্য নতুন নিয়ম চালু করা হবে। জাহাজের নিরাপদ যাত্রা এবং পরিবেশ রক্ষার খরচের জন্য একটি ফি নেওয়া হবে। তবে এই নিয়ম আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের বাইরে যাবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
যুদ্ধ শুরুর পর ইরান এই প্রণালিটি কার্যকরভাবে বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছিল। গত মাসে একটি শান্তি চুক্তির পর জাহাজ চলাচল আবার শুরু হয়। তবে পথটি স্বাভাবিক করা এখনো বেশ জটিল। এর প্রমাণ মেলে সম্প্রতি। শুক্র ও শনিবার অন্তত ৮টি জাহাজ ওমান উপকূল থেকে বাধ্য হয়ে ফিরে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও আরব দেশগুলো এই জলপথে কোনো ধরনের ফি বসানোর ঘোর বিরোধী। তবে ইউরোপের কিছু দেশ মনে করে, সামান্য ফি দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু কোনো দেশের সাথে বৈষম্য করা যাবে না।
এদিকে ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন চায়, এই পথে জাহাজগুলো যেন বিনা বাধায় চলতে পারে। এতে সবারই লাভ হবে বলে মনে করে বেইজিং।