ফরিদপুরের রিকশাচালক বাদশা শেখ জীবিত, কিন্তু নির্বাচন কমিশনের তথ্যভান্ডারে দীর্ঘ এক দশক ধরে তিনি 'মৃত'। এই একটি প্রশাসনিক ভুলের কারণে ২০১৪ সাল থেকে কোনো নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি তিনি, জাতীয় পরিচয়পত্রও ছিল ব্লক। নিজের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে এনআইডি হাতে নিয়ে এক অফিস থেকে আরেক অফিসে ঘুরতে হয়েছে তাকে। অবশেষে সম্প্রতি তথ্য সংশোধন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফরিদপুর জেলা নির্বাচন অফিস।
বাদশা শেখ জানান, ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে ভোটার তালিকায় নিজের নাম খুঁজে পাননি। পরে জানতে পারেন নির্বাচন কমিশনের তথ্যভান্ডারে তাকে মৃত দেখানো হয়েছে। তিনি বলেন, কাগজে-কলমে মৃত বানিয়ে দেওয়ায় তার এনআইডিও ব্লক হয়ে যায়। সমাধানের আশায় ফরিদপুর জেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে নিজের ছবিসংবলিত এনআইডি প্রদর্শন করেও সেদিন কোনো সুরাহা হয়নি। কর্মকর্তারা পৌরসভা থেকে জীবিত সনদ আনতে বলেন, যা চলতি বছরের ২৩ জুন তিনি সংগ্রহ করে জমা দেন। প্রতিদিন রিকশা চালিয়ে সংসার চালানোর মধ্যেও এই দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যেতে হয়েছে তাকে।
২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ আলাউল হোসেন তনু বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং কর্তৃপক্ষের দ্রুত সংশোধনের মাধ্যমে একজন জীবিত মানুষকে তার সব নাগরিক সুবিধা ফিরিয়ে দেওয়া উচিত। ফরিদপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তারেক আহমেদ জানান, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার মাধ্যমে তথ্য সংশোধন করা হয়েছে এবং বাদশা শেখকে আর মৃত হিসেবে দেখানো হচ্ছে না।