‘আমেরিকার মৃত্যু’ স্লোগানে মুখর তেহরান, খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় জনসমুদ্র

আপলোড সময় : ০৪-০৭-২০২৬ ১১:০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৪-০৭-২০২৬ ১১:০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফন উপলক্ষে রাজধানী তেহরানে ব্যাপক জনসমাগম হয়েছে। ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সকে কেন্দ্র করে হাজারো মানুষের কণ্ঠে ‘আমেরিকার মৃত্যু’ ও ‘প্রতিশোধ’ স্লোগান ধ্বনিত হচ্ছে, যা পুরো অনুষ্ঠানকে রাজনৈতিক ও আবেগঘন পরিবেশে পরিণত করেছে।
 

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগেই কমপ্লেক্সের প্রধান প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকা মানুষের ঢলে পূর্ণ হয়ে যায়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির তথ্য অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই লাল পতাকা বহন করছিলেন, যা ইরানি সংস্কৃতিতে প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। ভোর থেকেই শোকাহত জনতা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী নানা স্লোগান দিতে থাকেন।
 

শহরের বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনেও দেখা যায় মানুষের ভিড়। মেট্রো পরিষেবা চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা দলবদ্ধভাবে অনুষ্ঠানস্থলের দিকে রওনা হন, যাতে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের এই রাষ্ট্রীয় আয়োজনে অংশ নিতে পারেন।
 

৮৬ বছর বয়সী খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক হামলার প্রথম দিন নিহত হন বলে ইরানি সূত্রে জানা যায়। ওই হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান। সে সময় তিনি তেহরানে নিজ বাসভবনে অবস্থান করছিলেন।
 

প্রাথমিকভাবে মার্চ মাসে দাফনের পরিকল্পনা থাকলেও চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে তা স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতির সুযোগে প্রায় চার মাস পর রাষ্ট্রীয়ভাবে জানাজা ও দাফনের আয়োজন করা হয়। সাত দিনব্যাপী এই আনুষ্ঠানিকতা শুক্রবার (৩ জুলাই) থেকে শুরু হয়েছে।
 

এই রাষ্ট্রীয় আয়োজনে বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। ইরানের প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে ইরাক, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, আর্মেনিয়া ও তুরস্কের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা তেহরানে উপস্থিত রয়েছেন। একইসঙ্গে সৌদি আরব, কাতার, ওমান, ইয়েমেন ও মিসরসহ আরব বিশ্বের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন।
 

আন্তর্জাতিক পর্যায়েও রাশিয়া, চীন, বেলারুশ, জর্জিয়া, সার্বিয়া, তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান ও কিরগিজস্তানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত হয়েছেন। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যেও বিভিন্ন প্রতিনিধি দল অংশ নিয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার ও ভারতের প্রতিনিধিরা উল্লেখযোগ্য।
 

এছাড়া সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও), ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এবং ডেভেলপিং-৮ (ডি-৮)-এর প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। বিভিন্ন আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতারাও খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানে অবস্থান করছেন, যা এই আয়োজনের আন্তর্জাতিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]