রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনজুড়ে অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ। একই সময়ে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই কিয়েভের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, কারণ সাবেক সেনাপ্রধান ভ্যালেরি জালুঝনি আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে চ্যালেঞ্জ জানানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
বুধবার (১ জুলাই) ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে একযোগে হামলা চালায় রুশ বাহিনী। দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভ ছাড়াও ওডেসা ও খেরসন অঞ্চলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ফলে হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। সাম্প্রতিক সময়ে আকাশপথে এ ধরনের সমন্বিত হামলা আরও ঘন ঘন ঘটছে, যা বেসামরিক জনগণের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
এর জবাবে ইউক্রেনও রুশ সীমান্তবর্তী এলাকায় ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব পাল্টা হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো, বিশেষ করে তেল শোধনাগারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, যা যুদ্ধের অর্থনৈতিক দিকেও প্রভাব ফেলছে।
এদিকে চলমান সংঘাতের মধ্যেই ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান ভ্যালেরি জালুঝনি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছেন যে তিনি আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিয়ে জেলেনস্কিকে চ্যালেঞ্জ করবেন। তিনি দাবি করেন, দেশের জনগণ তার ওপর আস্থা রাখছে এবং সেই আস্থার প্রতি তিনি দায়বদ্ধ।
অন্যদিকে, ইউক্রেন সংকট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না—এ বিষয়ে রাশিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি বলে দাবি করেছে মস্কো। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ওয়াশিংটন তাদের নীতিগত অবস্থানের কোনো পরিবর্তনের কথা সরাসরি জানায়নি। তবে যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ নিয়ে সন্দেহ নেই বলেও উল্লেখ করে রাশিয়া জানায়, আলাস্কা সম্মেলনের আলোচনার ভিত্তিতে যেকোনো ন্যায্য ও টেকসই সমাধান বিবেচনায় তারা এখনো প্রস্তুত।