যুদ্ধের অভিঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের ঐতিহাসিক স্থাপনা, ঝুঁকিতে বিশ্ব ঐতিহ্য

আপলোড সময় : ০২-০৭-২০২৬ ১০:১৯:০০ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০২-০৭-২০২৬ ১০:১৯:০০ পূর্বাহ্ন

 

যুদ্ধের প্রভাবে ইরানের বহু শতাব্দী পুরোনো সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন হামলার সরাসরি আঘাত ছাড়াও বিস্ফোরণের তীব্র কম্পনে ঐতিহাসিক প্রাসাদ, মসজিদ ও বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত স্থাপনাগুলোর দেয়ালে ফাটল, কাচ ভাঙা ও অলংকরণ খসে পড়ার মতো ক্ষতির চিত্র সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে সাম্প্রতিক সামরিক হামলার প্রেক্ষাপটে অন্তত ১১টি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে ইসফাহান শহরের নকশে জাহান স্কয়ার এবং প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো চেহেল সোটুন প্রাসাদ। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিস্ফোরণ সরাসরি কোনো স্থাপনায় না পড়লেও এর কম্পন এক কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা বিশেষ করে পুরোনো ও নাজুক স্থাপনার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।
 

ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর তালিকায় রয়েছে ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য নকশে জাহান স্কয়ার, চেহেল সোটুন প্রাসাদ, গোলেস্তান প্রাসাদ, ইসফাহানের জামে মসজিদ, ট্রান্স-ইরানিয়ান রেলপথের আন্দিমেশ্ক স্টেশন এবং প্রায় ১ হাজার ৮০০ বছরের পুরোনো ফালাক-অল-আফলাক দুর্গ। এসব স্থাপনা কেবল ইরানের ইতিহাসই নয়, বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও বিবেচিত।
 

ইরানের ইউনেস্কো প্রতিনিধি জানিয়েছেন, চলমান সংঘাতের ফলে দেশজুড়ে অন্তত ১৩৪টি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ক্ষতির মুখে পড়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইসফাহান শহর শুধু একটি দেশের নয়, বরং বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ—এ কারণে এর সুরক্ষা আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
 

বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখনো সরাসরি বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো সম্ভব হয়নি। ফলে স্যাটেলাইট চিত্রের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক মূল্যায়ন করা হচ্ছে। প্রত্নতত্ত্ববিদ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতীতে এমন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো সাধারণত ‘নো-স্ট্রাইক লিস্টে’ অন্তর্ভুক্ত থাকত। ১৯৫৪ সালের হেগ কনভেনশন অনুযায়ী, যুদ্ধকালীন সময়ে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা করা আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যবাধকতা এবং ইচ্ছাকৃতভাবে এসব স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হলে তা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
 

 

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]