নানা স্তরের পুঁজিবাদী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এতে আর্থিকভাবে লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষ। তাদের মেধা ও সময়ের বিপুল অপচয় হয়, চিন্তা ও কর্মের অধঃপতন ঘটে, ঝগড়া-ফ্যাসাদ সৃষ্টি হয় এমনকি মর্মান্তিক আত্মহননেরও সংবাদ শোনা যায়।
বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে প্রায়ই সমর্থকদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক, ঝগড়া এমনকি মারামারির ঘটনাও দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে প্রিয় দলের জয়-পরাজয়কে ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয় হিসেবে নিয়ে একে অপরের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন কেউ কেউ। এছাড়া পতাকা, জার্সি, ব্যানার, উৎসব ও বিভিন্ন আয়োজনের পেছনে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়।
এই অর্থহীন কর্মকাণ্ডের দায় কি তাদের উপরও কিছু পরিমাণে আসে না, যারা খেলাধুলাকে উন্মাদনার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সাথে কোনো না কোনোভাবে জড়িত। বিষয়টি শান্ত মনে চিন্তা-ভাবনা করা উচিত।
বর্তমান সময়ের বিনোদন-ভোক্তাদেরও বুঝতে হবে যে, বিনোদন ও খেলাধুলার চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। জীবনদাতা আল্লাহ এই জীবন এই জন্য দেননি যে, মানুষ তা খেলাধুলায় কাটিয়ে দিবে। জীবন তো এজন্য দেয়া হয়েছে, যেন মানুষ জীবনদাতার পরিচয় লাভ করে এবং তাঁর প্রতি বিশ্বাস ও আনুগত্যের মাধ্যমে জীবনকে সার্থক ও আলোকিত করে। হায়! আল্লাহর যে বান্দা তার রবের পরিচয়ই পেল না, তার প্রতি ঈমান ও বিশ্বাস ছাড়াই দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেল তার জীবন তো সম্পূর্ণ ব্যর্থই হয়ে গেল। যেসকল মানুষকে আল্লাহ তাআলা ঈমানের দৌলত নসিব করেছেন তারা তো মহাসম্পদ লাভ করেছেন। জীবনকে সার্থক ও সাফল্যমণ্ডিত করার প্রধান উপায় তাদের হাসিল হয়েছে। তারা যদি তাদের দ্বীনের শিক্ষার দিকে নজর দেন তাহলে উপলব্ধি করতে পারবেন জীবন ও কর্মকে অর্থপূর্ণ করার কী অব্যর্থ শিক্ষা তাদের ধর্মে রয়েছে। চিন্তাশীলতা ও বিচার-বিবেচনার কী উৎসাহই না এতে দেওয়া হয়েছে। জীবনের ছোট থেকে ছোট কর্মেও আছে মুহাসাবা ও বিচার-বিশ্লেষণের শিক্ষা। বুদ্ধিমান মানুষের বুদ্ধি-বিবেচনার এর চেয়ে যথার্থ মূল্যায়ন আর কী হতে পারে?
খেলায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দলের সমর্থক হয়ে যাওয়াটা আসলে কী? এই সমর্থন-অসমর্থনটা কীসের জন্য? ব্যক্তি বা সমাজের এতে কী উপকার? মানুষের যে কোনো কাজেরই তো একটা অর্থ থাকবে? যে মানুষকে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন বিচার-বুদ্ধি দিয়ে, অর্থহীন কাজে লিপ্ত হওয়া তো তার নিজের বিচার-বুদ্ধির প্রতি অবিচার। পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে এই প্রশ্নগুলোও কারো কাছে আশ্চর্যের বিষয় মনে হতে পারে। কিন্তু আসলেই কি এগুলো ভাবার ব্যাপার নয়।
আমাদের সমাজ-চিন্তকদের যুবশ্রেণির আবেগ-অনুভূতি নিয়েও ভাবা প্রয়োজন। আবেগ মানুষের অনেক বড় শক্তি। এই শক্তির অপচয়ও তাই অনেক বড় অপচয়। তরুণ-যুবকদের আবেগকে সঠিক ও ইতিবাচক কাজে নিয়োজিত করার জন্য এবং অন্যায়-অর্থহীন কাজে নিঃশেষ হওয়া থেকে রক্ষার জন্য সুচিন্তিত পদক্ষেপ নিতে হবে।
জাতি ও জীবন গঠনের বহু ক্ষেত্র রয়েছে, যাতে আমাদের যুবশক্তির মেধা, আবেগ ও কর্মশক্তির প্রয়োজন। এগুলো সঠিক পথে পরিচালিত হলে জীবনগঠন ও জাতিগঠনের পথে অগ্রসর হওয়া সম্ভব হবে। পক্ষান্তরে এই অমূল্য সম্পদের অপচয় ব্যক্তি ও জাতিকে শুধু পিছিয়েই দিবে।
সংগৃহীত এবং পরিমার্জিত : মাসিক আল কাউসার (আব্দুল্লাহ নসীব হাফি)