জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সংঘটিত দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের সময়ে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে এবং এ সময়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য জাতির সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।
রবিবার জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যমুনার অন্দরে ও আশপাশে সংঘটিত নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন শ্বেতপত্রের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা যেতে পারে বলেও তিনি মত দেন। তাঁর মতে, কোথায় কী ধরনের দুর্নীতি হয়েছে, কীভাবে হয়েছে এবং কারা জড়িত—এসব বিষয় অনুসন্ধান করে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা উচিত।
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের ভিত্তি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি। তাই যেকোনো অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি অতীত সরকারের সময়ের অর্থ পাচার, ব্যাংক খাতের অনিয়ম, ঋণ কেলেঙ্কারি, মেগা প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি এবং আইনি কাঠামোর মাধ্যমে দুর্নীতির বৈধতা দেওয়ার অভিযোগও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, গত ১৫ বছরে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে এবং এর প্রভাব দেশের অর্থনীতির ওপর গভীরভাবে পড়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যেও ৯ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেছে। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন অর্থনৈতিক কাঠামোর ভিত্তিতে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার সহযোগিতায় এই বাজেট সফলভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
সংসদে দেওয়া তাঁর এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের কর্মকাণ্ড তদন্তের আহ্বান এবং দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।