ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার এবং মাদকবিরোধী সভাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। রোববার (২৮ জুন) সকালে হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী গ্রামে এ সংঘর্ষের সময় প্রায় চার ঘণ্টা ফরিদপুর-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি একটি মাদকবিরোধী সভাকে ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক পক্ষের অভিযোগ, ওই সভার আড়ালে প্রতিপক্ষ নিজেদের শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করেছে। অন্যদিকে অপর পক্ষের দাবি, সভায় অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করেই বিরোধের সূত্রপাত।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যায় দেলোয়ার মাতুব্বরের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনার জেরে রোববার সকালে পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুই পক্ষ মুখোমুখি হয়। পরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার একপর্যায়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র, টেঁটা, ঢাল, সরকি ও ইটপাটকেল ব্যবহার করে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে আকতার মাতুব্বর, রিয়াদ মাতুব্বর ও মামুন মাতুব্বরকে গুরুতর অবস্থায় ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোকন মিয়া বলেন, মাদকবিরোধী সভায় অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁদের সমর্থক দেলোয়ার মাতুব্বরের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পর পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। অন্যদিকে ছিরু মিয়ার দাবি, মাদকবিরোধী সভার নামে মাদক কারবারিদের একত্রিত করা হয়েছিল, যা উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, সকাল ৯টার দিকে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাজ শুরু করে। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে যান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় কোনো যানবাহনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ভাঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজওয়ান দীপু বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ বা মামলা করেনি। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।