আজ শুক্রবার পবিত্র আশুরা। হিজরি ১৪৪৮ সনের মহররম মাসের ১০ তারিখ। মুসলিম উম্মাহর জন্য দিনটি ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ববহ এবং একইসাথে গভীর শোকের দিন।
৬১ হিজরির ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে ১০ মুহররম এই আশুরার দিনে বিশ্বমানব সভ্যতার ইতিহাসে এক নিদারুণ মর্মান্তিক ও বিয়োগান্ত ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল ইরাকের ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে।
ইসলামের ইতিহাসে এ দিনটি নানা তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনার স্মারক হলেও কারবালার মর্মন্তুদ ঘটনা পবিত্র আশুরাকে বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে।
মহানবী হজরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন ( রা) তার পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ সঙ্গীরা হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম ইরাকের কারবালা প্রান্তরে ইয়াজিদের বাহিনীর বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়ে শাহাদাত বরণ করেন।
একটি বছর ঘুরে আমাদের মাঝে আবার ফিরে এসেছে পবিত্র মহররম মাস। এই মাসের দশম দিনটিকে বলা হয় ইয়াওমে আশুরা। অনেকেই হয়তো ভাবেন, আশুরা মানেই কেবল শোকের কোনো দিন। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে এই দিনের মাহাত্ম্য ও আনন্দ জড়িয়ে আছে এক মহা মুক্তির ইতিহাসের সঙ্গে।
আপনি কি জানেন, মাত্র একটি রোজা আপনার পেছনের পুরো এক বছরের ছোটখাটো গুনাহগুলো মুছে দিতে পারে? হ্যাঁ, আল্লাহর দয়া এতই বিশাল! মুমিন জীবনে আমলের খাতা ভারী করার এবং আল্লাহর নৈকট্য পাওয়ার জন্য আশুরার রোজা এক অনন্য সুযোগ।
আল্লাহর নির্দেশে রাসুল (সা.) যখন মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করলেন, তখন দেখলেন মদিনার ইহুদিরা এই দিনে রোজা রাখছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) এর কারণ জানতে চাইলে তারা বলল, এটি একটি ঐতিহাসিক ও মর্যাদাপূর্ণ দিন। এই দিনে মহান আল্লাহ অত্যাচারী ফেরাউনের কবল থেকে হজরত মূসা (আ.) ও তার কওমকে মুক্তি দিয়েছিলেন এবং ফেরাউনকে দলবলসহ সাগরে ডুবিয়ে মেরেছিলেন। হজরত মুসা (আ.) আল্লাহর এই অসীম অনুগ্রহের শুকরিয়া হিসেবে এই দিনে রোজা রাখতেন।
তখন আমাদের রাসুল (সা.) বললেন, হজরত মুসা (আ.)-এর অনুসরণের ক্ষেত্রে তোমাদের চেয়ে আমাদের অধিকার বেশি। এরপর তিনি নিজেও রোজা রাখলেন এবং উম্মতকেও রোজা রাখার নির্দেশ দিলেন (সহিহ মুসলিম)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, আশুরার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর নিকট প্রত্যাশা রাখি, তিনি পূর্বের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন। (সহিহ মুসলিম)।
নফল রোজার মধ্যে এই মাসের রোজা সবচেয়ে উত্তম। হাদিসে এসেছে, রমজানের পর সব থেকে উত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মহররমের রোজা। (সহিহ মুসলিম)। প্রিয় রাসুল (সা.) রমজান ছাড়া অন্য কোনো মাসের রোজাকে আশুরার মতো এত বেশি গুরুত্ব দিতেন না।
ইসলমি শরিয়তে ইবাদতের ক্ষেত্রে অমুসলিমদের সংস্কৃতির সঙ্গে ভিন্নতা বজায় রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। ইহুদিরা শুধু ১০ তারিখে একটি রোজা রাখত। তাই রাসুলুল্লাহ (সা.) আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিলেন যে, বেঁচে থাকলে তিনি আগামী বছর ৯ ও ১০ মহররম দুটি রোজা রাখবেন।
তাই সুন্নাত ও উত্তম নিয়ম হলো—মহররমের ৯ ও ১০ তারিখ অথবা ১০ ও ১১ তারিখ মিলিয়ে পরপর দুটি রোজা রাখা।
যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততায় আমরা কত সময়ই তো হেলায়-খেলায় পার করে দিই। আসুন, এই মহররমের ১০ তারিখে একটি বা দুটি দিন রোজা রেখে আত্মশুদ্ধির পথে এগিয়ে যাই। অন্তরে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা আর ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে এই আমলটি যেন আমাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। আল্লাহ আমাদের সবাইকে আশুরার ফজিলত পূর্ণরূপে দান করুন। আমিন।
৬১ হিজরির ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে ১০ মুহররম এই আশুরার দিনে বিশ্বমানব সভ্যতার ইতিহাসে এক নিদারুণ মর্মান্তিক ও বিয়োগান্ত ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল ইরাকের ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে।
ইসলামের ইতিহাসে এ দিনটি নানা তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনার স্মারক হলেও কারবালার মর্মন্তুদ ঘটনা পবিত্র আশুরাকে বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে।
মহানবী হজরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন ( রা) তার পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ সঙ্গীরা হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম ইরাকের কারবালা প্রান্তরে ইয়াজিদের বাহিনীর বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়ে শাহাদাত বরণ করেন।
একটি বছর ঘুরে আমাদের মাঝে আবার ফিরে এসেছে পবিত্র মহররম মাস। এই মাসের দশম দিনটিকে বলা হয় ইয়াওমে আশুরা। অনেকেই হয়তো ভাবেন, আশুরা মানেই কেবল শোকের কোনো দিন। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে এই দিনের মাহাত্ম্য ও আনন্দ জড়িয়ে আছে এক মহা মুক্তির ইতিহাসের সঙ্গে।
আপনি কি জানেন, মাত্র একটি রোজা আপনার পেছনের পুরো এক বছরের ছোটখাটো গুনাহগুলো মুছে দিতে পারে? হ্যাঁ, আল্লাহর দয়া এতই বিশাল! মুমিন জীবনে আমলের খাতা ভারী করার এবং আল্লাহর নৈকট্য পাওয়ার জন্য আশুরার রোজা এক অনন্য সুযোগ।
আল্লাহর নির্দেশে রাসুল (সা.) যখন মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করলেন, তখন দেখলেন মদিনার ইহুদিরা এই দিনে রোজা রাখছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) এর কারণ জানতে চাইলে তারা বলল, এটি একটি ঐতিহাসিক ও মর্যাদাপূর্ণ দিন। এই দিনে মহান আল্লাহ অত্যাচারী ফেরাউনের কবল থেকে হজরত মূসা (আ.) ও তার কওমকে মুক্তি দিয়েছিলেন এবং ফেরাউনকে দলবলসহ সাগরে ডুবিয়ে মেরেছিলেন। হজরত মুসা (আ.) আল্লাহর এই অসীম অনুগ্রহের শুকরিয়া হিসেবে এই দিনে রোজা রাখতেন।
তখন আমাদের রাসুল (সা.) বললেন, হজরত মুসা (আ.)-এর অনুসরণের ক্ষেত্রে তোমাদের চেয়ে আমাদের অধিকার বেশি। এরপর তিনি নিজেও রোজা রাখলেন এবং উম্মতকেও রোজা রাখার নির্দেশ দিলেন (সহিহ মুসলিম)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, আশুরার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর নিকট প্রত্যাশা রাখি, তিনি পূর্বের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন। (সহিহ মুসলিম)।
নফল রোজার মধ্যে এই মাসের রোজা সবচেয়ে উত্তম। হাদিসে এসেছে, রমজানের পর সব থেকে উত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মহররমের রোজা। (সহিহ মুসলিম)। প্রিয় রাসুল (সা.) রমজান ছাড়া অন্য কোনো মাসের রোজাকে আশুরার মতো এত বেশি গুরুত্ব দিতেন না।
ইসলমি শরিয়তে ইবাদতের ক্ষেত্রে অমুসলিমদের সংস্কৃতির সঙ্গে ভিন্নতা বজায় রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। ইহুদিরা শুধু ১০ তারিখে একটি রোজা রাখত। তাই রাসুলুল্লাহ (সা.) আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিলেন যে, বেঁচে থাকলে তিনি আগামী বছর ৯ ও ১০ মহররম দুটি রোজা রাখবেন।
তাই সুন্নাত ও উত্তম নিয়ম হলো—মহররমের ৯ ও ১০ তারিখ অথবা ১০ ও ১১ তারিখ মিলিয়ে পরপর দুটি রোজা রাখা।
যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততায় আমরা কত সময়ই তো হেলায়-খেলায় পার করে দিই। আসুন, এই মহররমের ১০ তারিখে একটি বা দুটি দিন রোজা রেখে আত্মশুদ্ধির পথে এগিয়ে যাই। অন্তরে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা আর ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে এই আমলটি যেন আমাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। আল্লাহ আমাদের সবাইকে আশুরার ফজিলত পূর্ণরূপে দান করুন। আমিন।