গজলডোবার সব গেট খোলা: তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপরে, পানিবন্দী ৭ হাজার পরিবার

আপলোড সময় : ২৪-০৬-২০২৬ ০১:১০:৩২ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২৪-০৬-২০২৬ ০১:১০:৩২ পূর্বাহ্ন
ভারি বৃষ্টি ও ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের সব গেট খুলে দেওয়ায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদ সীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, পানির চাপ সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত  হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে চরাঞ্চলের অন্তত ৭ হাজার পরিবার।   

তিনি জানান, ভারত গজলডোবা ব্যারেজের ৩২টি গেট খুলে দেওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার রাত ১১ টার দিকে ভারত গেটগুলো খুলে দেয়, ফলে পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব জানান,  উত্তরের চার জেলা রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছে চরাঞ্চলের অন্তত ৭ হাজার পরিবার।  

তিনি জানান, পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের উত্তরের চার জেলায় দেখা দিয়েছে ভাঙন। গত ২৪ ঘন্টায় এই ৪ জেলার ১৭টি  ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। 

একাধিক পানিবন্দী পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ৩ দিন থেকে পানিবন্দি লোকদের কেউ কোনো খোঁজখবর রাখেনি। 

আজ মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানির প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৬ সেন্টিমিটার যা বিপদ সীমার ১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে হঠাৎ করে তিস্তা নদীর পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছে তিস্তা পাড়ের বাসিন্দারা। তিস্তার পানি বাড়ায় হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান, নিজ শেখ সুন্দর, বাঘের চর, সিঙ্গীমারি, ধুবনী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ি, কালীগঞ্জের শৈলমারী, চর বৈরাতী, রুদ্রেশ্বর, আদিতমারীর মহিষখোচা, গোবর্ধন ও স্পারবাধ, রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলা, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার তিস্তা চরাঞ্চলের নদীর তীরবর্তী চরে বাদামক্ষেত, ধানের বীজ তলা, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।

কালীগঞ্জের কাশীরাম এলাকার বাদাম চাষি লাকু মিয়া জানান, তিস্তার চরে ৫০ শতক জমি লিজ নিয়ে চিনাবাদাম চাষ করেছেন। কয়েকদিন পানি জমে থাকায় বাদামে পচন ধরেছে এবং গাছ হলুদ হয়ে যাচ্ছে। এতে ফলন কমে যাওয়ার পাশাপাশি লোকসানের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কৃষকরা জানান, রাতে পানি কমলে আবার সকালে পানি বাড়ে। পানি বাড়া- কমার কারণে দুশ্চিন্তায় আছি। চলতি মৌসুমে আমন আবাদে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা অনেক বীজতলাও পানির কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে নতুন করে বীজতলা তৈরির প্রয়োজন হতে পারে।

রংপুরের চর চব্বিশ হাজারী গ্রামের কৃষক আনোয়ারুল হক বলেন, সকাল থেকে টানা বৃষ্টির কারণে তিস্তার পানি আরও বাড়ছে। শুনছি ভারত পানি ছেড়ে দিয়েছে। পানি এভাবে বাড়তে থাকলে চরাঞ্চলের ধানের চারা, বাদাম ও মিষ্টিকুমড়াসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হবে।

মহিপুর তিস্তার চর এলাকার কৃষক মকবুল হোসেন জানায়, উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের কারণে ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে, গবাদি পশুর সহ সন্তানদের নিয়ে বিপাকে রয়েছি। 

চর রাজপুরের বাসিন্দা ঝন্টু মিয়া বলেন, গত দুদিন থেকে পানিবন্দী হয়ে আছি, চেয়ারম্যান মেম্বার কেউ কোন খবর রাখেনি। 

রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার  শহিদুল ইসলাম  বলেন, তিস্তার মধ্যবর্তী চরের কিছু পরিবার পানিবন্দী হয়ে আছে। চেয়ারম্যানদের তালিকা  করতে বলা হয়েছে। তালিকা পেলেই শুকনো খাবার বিতরণ করা হবে। 

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, বিকেল ৩টায় পানি বিপদ সীমার ১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে পানি আরও বাড়তে পারে।

তথ্যসূত্র: বাসস

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]