জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) বিদ্রোহী হলে গাঁজা সেবনের অভিযোগ থেকে শুরু হওয়া বিরোধ সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে, যাতে সিনিয়র ও জুনিয়র দুই শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। রোববার (২১ জুন) রাত দশটার দিকে হলের ৬১৫ নম্বর কক্ষে এই ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থীদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিদ্রোহী হলের ৭১৪ নম্বর কক্ষে রুমমেট হিসেবে থাকা আইন ও বিচার বিভাগের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হান্নান দর্শন বিভাগের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সিফাতুল সিয়াম মুগ্ধের বিরুদ্ধে গাঁজা সেবনের অভিযোগ হল প্রশাসনকে জানান। হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম কক্ষ পরিদর্শন করলেও তখন কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। পরে হান্নান অ্যাশট্রেতে গাঁজার অংশবিশেষ দেখতে পান বলে দাবি করেন, যা নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় এবং হান্নান মুগ্ধকে চড় মারেন বলে অভিযোগ ওঠে।
পরে রাতে ৬১৫ নম্বর কক্ষে খাবার খাওয়ার সময় মুগ্ধসহ কয়েকজন জুনিয়র শিক্ষার্থী হান্নানের ওপর হামলা চালান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন। হামলায় গুরুতর আহত হন হান্নান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গিয়ে আঘাত পান হলের হাউজ টিউটর খাইরুল ইসলামও। অন্যদিকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে মুগ্ধ দাবি করেন, হাতাহাতির সময় তাকে বুকে লাথি মারা হয়েছিল, যাতে তিনিও আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার জের ধরে আইন ও বিচার বিভাগ ও দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাত বারোটার দিকে আইন ও বিচার বিভাগের একদল শিক্ষার্থী অগ্নিবীণা হলে দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থীদের খোঁজে গিয়ে কাউকে না পেয়ে কয়েকটি কক্ষে প্রবেশ করে জিনিসপত্র এলোমেলো করার অভিযোগও উঠেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা, তবে প্রক্টরকে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। হল প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানিয়েছে।