ভালো বন্ধু শিশুকে ইতিবাচক আচরণ, শৃঙ্খলা, সহযোগিতা, ভদ্রতা এবং নৈতিক মূল্যবোধ শেখাতে সাহায্য করতে পারে। অন্যদিকে নেতিবাচক আচরণে অভ্যস্ত বন্ধুদের প্রভাবে কিছু শিশু মিথ্যা বলা, অশোভন আচরণ করা বা পড়াশোনায় অনাগ্রহী হয়ে উঠতে পারে।
সন্তান কার সঙ্গে মেলামেশা করছে, কোথায় সময় কাটাচ্ছে এবং বন্ধুদের আচরণ কেমন—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের খোঁজ রাখা উচিত। তবে তা যেন অতিরিক্ত নজরদারি বা কঠোর নিয়ন্ত্রণে পরিণত না হয়। সন্তানের সঙ্গে খোলামেলা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলে সে নিজের বন্ধুদের বিষয়ে সহজেই কথা বলতে পারে।
সন্তানের বন্ধুদের পরিচয় জানার পাশাপাশি তাদের পারিবারিক পরিবেশ ও সাধারণ আচরণ সম্পর্কেও ধারণা রাখা ভালো। এতে অভিভাবকরা বুঝতে পারেন, সন্তান কোন ধরনের সামাজিক পরিবেশে সময় কাটাচ্ছে।
শিশুর আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন দেখা দিলে সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। যেমন—অকারণে রাগ করা, পরিবারের সদস্যদের থেকে দূরে সরে যাওয়া, নিয়ম না মানা, মিথ্যা বলা বা পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যাওয়া অনেক সময় নেতিবাচক প্রভাবের লক্ষণ হতে পারে।
শিশুদের ছোটবেলা থেকেই সততা, শিষ্টাচার, দায়িত্ববোধ এবং ভালো-মন্দ পার্থক্য করার শিক্ষা দেওয়া উচিত। এতে তারা ধীরে ধীরে নিজেরাই ভালো বন্ধু নির্বাচন করার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।
খেলাধুলা, বই পড়া, শিক্ষা কার্যক্রম, সামাজিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে শিশুদের অংশগ্রহণ বাড়ালে তারা ইতিবাচক পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ পায়। এতে ভালো বন্ধু পাওয়ার সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পায়।
বন্ধু নির্বাচন শিশুর ভবিষ্যৎ জীবন গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই সন্তানকে ভালো বন্ধু বেছে নেওয়ার গুরুত্ব বোঝানো এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া প্রতিটি অভিভাবকের দায়িত্ব।
সচেতন অভিভাবকত্ব, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং সন্তানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ একটি শিশুকে সঠিক বন্ধু নির্বাচন এবং সুস্থ সামাজিক বিকাশের পথে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।