রাতের খাবার খাওয়ার পরপরই ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাস অনেকের মধ্যে দেখা যায়। তবে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভ্যাস হজমপ্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে এবং কিছু শারীরিক অস্বস্তির কারণ হতে পারে। তাই রাতের খাবার খাওয়ার পরপরই শুয়ে না গিয়ে কিছুটা সময় অপেক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
খাবার খাওয়ার পর পাকস্থলী খাবার হজমের কাজ শুরু করে। এ সময় শরীর সোজা অবস্থায় থাকলে হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে চলতে সুবিধা হয়। কিন্তু খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়লে বুকজ্বালা, টক ঢেকুর বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (GERD) বা দীর্ঘদিনের বুকজ্বালার সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য খাওয়ার পরপরই ঘুমানো অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই চিকিৎসকেরা এ ধরনের রোগীদের রাতের খাবার ও ঘুমের মধ্যে কিছুটা বিরতি রাখার পরামর্শ দেন।
রাতের খাবারের পরপরই শুয়ে পড়লে অনেকের পেট ভার লাগা, অস্বস্তি বা পেট ফাঁপার অনুভূতি হতে পারে। যদিও এটি সবার ক্ষেত্রে হয় না, তবে যাদের হজমজনিত সংবেদনশীলতা বেশি, তাদের মধ্যে এ ধরনের সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
রাতের খাবার খাওয়ার পর হালকা হাঁটাহাঁটি করা উপকারী হতে পারে। এতে শরীর সচল থাকে এবং অনেকের ক্ষেত্রে খাবারের পর অস্বস্তি কম অনুভূত হয়। তবে খাওয়ার পরপরই কঠোর ব্যায়াম বা ভারী শারীরিক পরিশ্রম করা উচিত নয়।
ঘুমানোর আগে কিছু পরিমাণ সময় হাতে রেখে রাতের খাবার শেষ করা ভালো। এতে খাবার হজমের জন্য শরীর কিছুটা সময় পায় এবং রিফ্লাক্স বা বুকজ্বালার ঝুঁকি কমতে পারে।
পাশাপাশি রাতের খাবারে অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত, ঝাল বা ভারী খাবার কম খাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। এসব খাবার কিছু মানুষের ক্ষেত্রে হজমে বেশি সময় নিতে পারে এবং রাতে অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
সুস্থ জীবনযাপনের জন্য রাতের খাবার পরিমিত পরিমাণে খাওয়া, খাওয়ার পর কিছু সময় সোজা অবস্থায় থাকা এবং ঘুমানোর আগে পর্যাপ্ত বিরতি রাখা ভালো অভ্যাস। এতে হজমজনিত অস্বস্তি কমানোর পাশাপাশি আরামদায়ক ঘুম পেতেও সহায়তা হতে পারে।